অন পেজ এস ই ও (On-Page SEO): SEO কন্টেন্ট তৈরির কৌশল

তো আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর আপনার এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভালো ভালো কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে।

 

এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে যে কনটেন্ট কি জিনিস! কনটেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে ও তা কিভাবে এস ই ও করতে হয় তা জানতে এই গাইডটি মনযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

 

ওয়েবসাইট কনটেন্ট কি?

সোজা ভাষায় বলতে গেলে ওয়েবসাইট কনটেন্ট হলো তাই যার জন্য আপনার অডিয়েন্স আপনার ওয়েবসাইটে আসে। তার মানে হল যে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যাই পাবলিশ করেন না কেন তাই হল আপনার সাইটের কনটেন্ট।

 

ওয়েবসাইট কন্টেন্ট কি কি হতে পারে?

এই কনটেন্ট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এই যেমন আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট, অডিও, ভিডিও, স্লাইড প্রেজেন্টেশন, ইনফোগ্রাফিক ইত্যাদি।

 

আমার সাইট সমূহের মূল কনটেন্ট হলো আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট। হ্যাঁ আমি আর্টিকেল বা ব্লগপোষ্টের মাধ্যমে আমার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট তৈরি করে থাকি যদিও মাঝে মাঝে অডিও বা ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করি তবে মূলত আমি আর্টিকেল ও ব্লগপোস্টের ওপর ভর করে আমার ইনকাম সোর্স তৈরি করেছি।

 

আপনি যদি আমার ইংলিশ ওয়েবসাইটটিতে যান তবে দেখতে পাবেন যে সেখানে অজস্র আর্টিকেল ও ব্লগ পোস্ট পাবলিশ করা আছে। এই সমস্ত আর্টিকেল ও ব্লগপোস্টের মাধ্যমে আমি নিয়মিত আয় পেতে থাকি।

 

SEO আর্টিকেল বা ব্লগ পোস্ট কিভাবে লিখতে হয়?

আর্টিকেল বা ব্লগ পোষ্ট হল বিভিন্ন টপিকের উপর লিখিত কন্টেন্ট। আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভালো আয় করতে হলে আপনাকে বেশি বেশি এসইও (SEO) আর্টিকেল ও ব্লকপোস্ট লিখতে হবে।

 

SEO মেইনটেইন করতে হয় গুগল ও অন্যন্য সার্চ এঞ্জিনে আপনার আর্টিকেলগুলো rank করানোর জন্য। আর্টিকেল গুগলের প্রথম পেইজে rank করানো মানে আপনি আপনার অনেক অডিয়েন্স সার্চ এর মাদ্ধমেই পেয়ে যাবেন।

 

আর এই সার্চ করে ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটরগুলো খুবই কাজের হয় কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার সাইটে প্রবেশ করেছে।

 

ধরুন কেউ একজোড়া জুতা কিনবে এবং সে তা কিনতে একটি জুতার দোকানে গেলো। এক্ষেত্রে তার জুতা কেনার সম্ভাবনা অনেক।

 

একটি ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে জিনিসটি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হল আপনার ওয়েবসাইটের নিশ।

 

তো আমি আগেই বলেছি যে নিশ হল আপনার ওয়েবসাইটের মূল টপিক। কখনোই আপনার ওয়েবসাইটের টপিকের বাইরের কোনো কনটেন্ট তৈরি করা ঠিক না। এটা এ কারণে যে তখন আপনার অডিয়েন্স কিছুটা বিভ্রান্ত হতে পারে।

 

এবার আমি আপনাকে দেখাবো কিভাবে আপনি একটি এসইও আর্টিকেল বা ব্লগপোষ্ট লিখবেন।

 

নিচের পর্যায়গুলো একে একে ভালো করে অনুসরণ করুন তাহলে আপনি খুব সুন্দর এসইও আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট লিখতে পারবেন:

ধাপ ১

প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইটের নিশ এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ডগুলো রিসার্চ করে বের করে আনতে হবে। এরপর তা একটি ডকুমেন্টে সেভ রাখতে হবে। এটা করতে হবে এই কারণে যাতে করে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন নিশ রিলেটেড কিওয়ার্ড এর উপর কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন।

 

তো আপনি কিওয়ার্ডগুলো কিভাবে বের করবেন?

 

আপনার ওয়েবসাইটের নিশ রিলেটেড কিওয়ার্ডসমূহ বের করতে আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে।

 

প্রথমে আপনার ওয়েবসাইট এর নিশ এর যে মেইন কিওয়ার্ডটি আছে সেটি একটু চিন্তা করুন।

 

ধরুন আপনার ওয়েবসাইটটি হল ব্লগিং সম্পর্কিত বা আপনার ওয়েবসাইটটি ব্যবসাসংক্রান্ত। তো যদি আপনার ওয়েবসাইটটি ব্লগিং সংক্রান্ত হয় তবে আপনার ওয়েবসাইটের মেইন নিশ কীওয়ার্ডটি হল ব্লগিং আর যদি ব্যবসা সংক্রান্ত হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের মেইন নিশ হবে ব্যবসা বা বিজনেস। 

 

ধাপ ২

এবার আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মেইন কীওয়ার্ডটি নিয়ে গুগলে (Google.com) যান এবং সেখানে সার্চ করুন দেখবেন গুগলের রেজাল্ট পেইজের একেবারে নিচে কিছু সাজেশন দেখা যাচ্ছে।

 

এই সাজেশন এর মধ্যে আপনি অনেক নিশ রিলেটেড কীওয়ার্ড পাবেন। ওই সাজেস্টেড কীওয়ার্ডগুলো আলাদা ট্যাবে ওপেন করেন। দেখবেন সেখানে আরও অনেক সাজেশন কীওয়ার্ড পাচ্ছেন। তো সব রিলেভেন্ট সাজেশন কীওয়ার্ড গুলি আপনার ডকুমেন্টে সেভ করতে থাকুন।

 

ধরেন আমার ওয়েবসাইটের মূল নিশ হলো ব্লগিং। এখন আমি এই নিশ এর উপর আরো অনেক কীওয়ার্ড সাজেশন চাচ্ছি। আমাকে যা যা করতে হবে তা আমি এখন এই ভিডিওতে দেখাচ্ছি:

 

তো এভাবে অসংখ্য নিশ রিলেটেড কীওয়ার্ড বের করা যায়।

 

নিশ রিলেটেড সকল কীওয়ার্ড একটি ডকুমেন্টে সেভ করে রাখুন।

 

আপনি চাইলে এই সেভ করা কীওয়ার্ডগুলির কম্পেটিশন লেভেল যাচাই করতে পারেন কোনো ভালো কীওয়ার্ড রিসার্চ টুল ব্যবহার করে।

 

আমি SEMrush ব্যবহার করি, কিন্তু এটি ব্যবহার করতে ৯৯ ডলারের মতো লাগবে।

 

আপনি টুলটি না ব্যবহার করেও আপনার বের করা কীওয়ার্ড এর ওপর আর্টিকেল ও ব্লগপোস্ট লিখতে পারেন কারণ গুগল (Google) বেশি বেশি নিশ রিলেটেড কীওয়ার্ড এর ওপর তৈরী সাইটকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

 

ধাপ ৩

এবার আপনার সেভ করা কীওয়ার্ডগুলো একে একে পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে নিন।

 

প্রতিদিন বা প্রতি দুইদিনে একটি করে ১০০০ ওয়ার্ড এর আর্টিকেল লিখতে পারলে আপনার কিছু মাস পরে আর কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

 

কিন্তু মূল সমস্যা হলো নিয়মিত কিছু করা। 

 

অধিকাংশ মানুষই নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারে না সে তা যত সামান্য কাজই হোক না কেন।

 

তো প্রথমে একটি কীওয়ার্ড বেছে নিন। এবার এই কীওয়ার্ডটির ওপর একটি আকর্ষণীয় টাইটেল তৈরী করুন।

 

খেয়াল রাখবেন আপনার আর্টিকেলের টাইটেলটি যেন ৮ বা ১০ ওয়ার্ড লম্বা হয়। এটি এস ই ওর জন্য খুবই কার্যকরী।

 

একটি কন্টেন্ট এর জন্য এর টাইটেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই কিছুটা সময় দিয়ে আপনার আর্টিকেলের টাইটেলটি ভালোভাবে চিন্তা করে বের করুন।

 

এর পর আপনার সাইটের ড্যাশবোর্ডে যান। ড্যাশবোর্ডে যেয়ে একটি নিউ পোস্ট ওপেন করুন।

 

নিউ পোস্টের টাইটেল এ আপনার তৈরী করা টাইটেলটি বসিয়ে দিন।

 

আমি এখন নিশ কীওয়ার্ড থেকে একটি আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি এই ভিডিওতে দেখাচ্ছি:

 

ধাপ ৪

এবার আপনার আর্টিকেলটি লেখা শুরু করার পালা। তবে এটি করার আগে আপনাকে কিছুটা রিসার্চ করে নিতে হবে।

 

আপনি যত ভালোভাবে রিসার্চ করতে পারবেন, তত ভালোভাবে আপনি আরটিকেলটি লিখতে পারবেন।

 

রিসার্চ করতে আপনি আপনার ওই কীওয়ার্ড এর ওপর গুগল এ যেয়ে সার্চ দিন ও প্রথম পেইজের আর্টিকেলগুলো একে একে বিভিন্ন ট্যাবে ওপেন করুন।

 

এবার একে একে আর্টিকেলগুলো থেকে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো জানুন। দেখবেন আপনার দেওয়া কোনো ইনফরমেশন যেন ভুল না হয়।

 

রিসার্চ এর ফলে পাওয়া ডাটাগুলো আপনি নোট করে রাখতে পারেন যাতে করে আপনার তা মনে রাখতে সহজ হয়।

 

মনে রাখবেন অন্য কারো কোনো কন্টেন্ট থেকে আইডিয়া নেয়া যাবে কিন্তু কোনোক্রমেই তা কপি করা যাবে না!

 

ধাপ ৫

ভালোভাবে রিসার্চ সম্পন্ন হলে আপনি এখন আপনার আর্টিকেলটি লেখা শুরু করতে পারেন।

 

আপনার আর্টিকেলের একটি ভালো সূচনা দিন। তার মানে হলো আপনার আরটিকেলটি একটু সুন্দর করে শুরু করুন।

 

একটি আর্টিকেলের শুরু যদি ভালো হয় তবে আপনার অডিয়েন্স তা থেকে মুখ ফেরাতে পারবে না ফলে আপনার কনটেন্ট এর উদ্দেশ্য সফল হবে।

 

আপনি একটি ছোট রিলেভেন্ট গল্পের মাদ্ধমে আপনার আর্টিকেলটি শুরু করতে পারেন।

 

এস ই ও আর্টিকেল লিখতে আপনাকে কীওয়ার্ড প্রমিনেন্স এর দিকে কিছুটা খেয়াল দিতে হবে।

 

কীওয়ার্ড প্রমিনেন্স হলো আপনি আপনার আর্টিকেলের কীওয়ার্ডটি কোথায় কোথায় ব্যবহার করবেন তাই।

 

তো এখন আপনি যদি পারেন তবে স্বাভাবিকভাবে আপনার আর্টিকেলের শুরুতেই এর কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করবেন। এরপর কোনো একটি হেডার ট্যাগেও কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করতে হবে।

 

বার বার আপনার কীওয়ার্ডটি মোটেও ব্যবহার করবেন না কারণ এখন বেশি কীওয়ার্ড ডেন্সিটি কাজে লাগে না।

 

এভাবে একটি সুন্দর আর্টিকেল প্রথম থেকে শেষ অব্দি লিখে ফেলুন।

 

পারলে কয়েকটি রিলেভেন্ট ছবি আপনার আর্টিকেলে দিতে পারেন যা আপনার পাঠকদের আরো আকৃষ্ট করতে পারবে।

 

আপনি যদি ইংলিশ এ কন্টেন্ট লিখেন তবে একটি ভালো মানের গ্রামার চেকার টুল ব্যবহার করতে ভুলবেন না কারণ তা আপনার অনেক অনাকাঙ্খিত ভুল শুধরিয়ে দেবে।

 

আমি Grammarly ব্যবহার করি ও প্রতি নিয়ত অনেক ভুল ঠিক করে নিতে পারি।

 

Grammaly একটি গ্রামার চেকার যার ফ্রি ও পেইড দুটি ভার্সন ই আছে।

 

আপনি শুধু ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার করেই কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।

 

Grammarly (click here) তে একটি ফ্রি একাউন্ট তৈরী করে আপনার ব্রাউসার এর Grammarly এক্সটেনশনটি একটিভ করে নিন।

 

এরপর টুলটি অটোমেটিক আপনার ইংলিশ লেখার ভুল ডিটেক্ট করা শুরু করবে।

 

আর আপনি যদি বাংলায় কনটেন্ট লেখেন তবে টুলটি ব্যবহার করার দরকার নেই কারণ তা কোনো কাজে আসবে না।

 

কিভাবে আপনার সাইটের আর্টিকেলগুলো দ্রুত rank করবেন?

আর্টিকেলসমূহ দ্রুত rank করতে খেয়াল রাখবেন যেন তা কীওয়ার্ড এর ওপর লেখা হয়।

 

এরপর আর্টিকেলের লেংথ ও একটা ranking ফ্যাক্টর।

 

১৫০০ ওয়ার্ড বা এর অধিক লম্বা আর্টিকেলগুলি ভালো রাঙ্ক করে কারণ এ ধরণের আর্টিকেলগুলি খুব ডিটেইলড হয়।

 

আর সবথেকে বড় ranking ফ্যাক্টর হলো আপনার ধৈর্য্য!

 

হ্যা, আপনি নিয়মিত ধৈর্য্য ধরে নিশ কীওয়ার্ড এর ওপর আর্টিকেল লিখতে থাকলে আপনার গুগল ranking কেউ ঠেকাতে পারবে না।