নিজেকে আর কত বেচবেন? [বেচতে বেচতে কিছুই তো আর থাকলো না!]

রায়হান ইসলাম চেয়েছিল পড়াশুনা শেষে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকুরী করবে।

 

হলোও তাই পড়াশুনা শেষে ঠিকই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী হলো।

 

প্রথম কিছুদিন ছিল দারুন আনন্দের।

 

বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ভালোই বাহবা পাচ্ছিল।

 

আর পাড়ার মুদি দোকানিদের কাজে তো রীতিমতো একজন দেবতা বোনে গেলো রায়হান।

 

চাকুরীর কিছুদিন যাবার পরেই চাকুরীর আসল সত্য বের হয়ে আসতে লাগলো।

 

প্রথম সমস্য হলো টাইমিং নিয়ে যেটি তার লাইফকে হেল করে দিয়েছিল।

 

যদিও ৯ টা ৫ টা অফিস হবার কথা ছিল, কিন্তু বেশির ভাগ দিনই অফিস থেকে বের হতে ৮ টা বেজে যেত।

 

কোন কোন দিন রাত ১০ টা বা তার ও বেশি লাগতো বাসায় ফিরতে।

 

এভাবে অফিসে বিরামহীন সময় দেবার কারণে সে তার নিজের জন্য খুবই কম সময় পেত।

 

মাসে দুই-একটা বিয়ের দাওয়াত ও নিয়মিত মিস করাটা ছিল নিছক তুচ্ছ ঘটনা।

 

এরপর একদিন সে একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করলো।

 

সে দেখলো যে সে যা তার লাইফ থেকে হারাচ্ছে তা ৪৫ হাজার টাকা (তার মাসিক বেতন) দিয়ে কোনোভাবেই কেনা সম্ভব না।

 

তার মানে হলো তার কোম্পানি তাকে একটি এমাউন্ট প্রদান করে তাকে একরকম কিনেই নিয়েছে।

 

কিন্তু তার কিছু করার নেই কারণ তার হাত-পা বাধা স্বামাজিক প্রতিবন্ধকতার কাছে।

 

রায়হান ইসলাম কিন্তু একা নয়!

 

অগণিত রায়হান আমাদের আশেপাশে আছে যারা শুধুমাত্র স্বামাজিক স্বীকৃতির কথা চিন্তা করে তাদের আলট্রা-বোরিং এন্ড ডিসগাস্টিং জব করে যাচ্ছে।

 

সময় এসেছে বদলাবার!

 

ইন্টারনেটের কল্যানে যে কেউই চাইলে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

 

আর কে কি বলবে তাই ভাবছেন?

 

আরে ভাই আপনি যদি ভালো আয় করে আপনার সকল প্রয়োজন অন্য অনেকের থেকে ভালোভাবে মেটাতে পারেন, তবে কার কি বলার আছে ?

 

মুদি দোকানিরা যাদেরকে সেলুট দিচ্ছে এই কারণে যে তারা কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকুরী করে, এই চাকুরিজীবীরাই কিন্তু তাদের অফিসে বিভিন্ন মানুষকে সেলুট দিচ্ছে!

 

এই ধরুন ব্যাংকের কথা।

 

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা কিন্তু তার ক্লায়েন্টকে বিভিন্নভাবে সেলুট দিতে থাকেন এবং কথায় কথায় স্যার স্যার বলেন সে ক্লায়েন্ট যত খারাপই হোক না কেন। যদি তার একাউন্ট এ ভালো ব্যালান্স থাকে, তাহলেই হলো।

 

আপনি আপনার সময়, সম্মান সব কিছু বিলিয়ে দিচ্ছেন নগন্য কিছু টাকার বিনিময়ে।

 

তাহলে কি আপনি বিভিন্ন কোম্পানির কাছে নগন্য মূল্যে বিক্রি হয়ে গেলেন?

 

তাই বলি আর কত নিজেকে বেচবেন?

 

বি:দ্রঃ উপরোক্ত লেখাটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে আঘাত করার জন্য নয় বরং বাস্তব সত্যকে বের করে আনাই ছিল মূল উদ্দেশ্য

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান আর ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

Leave a Comment