এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো তার সঠিক দিক নির্দেশনা

কেমন আছেন আপনারা?

আশা করি আপনারা ভালো আছেন!

আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন। যেহেতু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনেকেই অনেক টাকা আয় করছেন, তাই আপনাদের মধ্যে অনেকেই খুব শীঘ্রই আফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান কিন্তু জানেন না যে কিভাবে তা করবেন। আর তাদের জন্যই আজকের এই পোস্টটি।

তো পোস্টটি পড়তে থাকুন ও জানতে থাকুন যে কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা যায়।

জেনে রাখা ভালো!
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? ও
এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

নিচে আমি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার ১০ টি ধাপ একে একে দেখাচ্ছি। আপনাকে এই ১০ টি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে অতিক্রম করতে হবে যদি আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান।

তাহলে ধাপ গুলো দেখে নেয়া যাক।

স্টেপ ১: নিশ বাছাই করা

এফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা অন্য যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে সবথেকে প্রথমে যে জিনিসটি করতে হয় সেটি হলো নিশ সিলেকশন।

তো নিশ সিলেকশন কি?

ধরুন আপনি একটি ব্যবসা করতে চান, এখন ব্যবসাটি কোন জিনিস নিয়ে করবেন?

একটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে নিশ হলো ওই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু।

আপনি হয়তো ইতোমধ্যে অনেক সাইট দেখেছেন যা ভিন্ন ভিন্ন নিশ নিয়ে গড়ে উঠেছে। এই যেমন আমার এই সাইটটিতে আমি অনলাইন বিভিন্ন ব্যবসা শুরু করা ও যেকোনো ব্যবসার ইনকাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।

তাই আপনি আমার ওয়েবসাইটটিকে একটি টাকা আয় (Income Generation) সংক্রান্ত ওয়েবসাইট বলতে পারেন।

তার মানে হলো আমার সাইটটির নিশই হলো টাকা আয় ও তা বৃদ্ধি।

এখন আপনারও প্রথমে আপনার সাইটের জন্য একটি নিশ সিলেক্ট করতে হবে।

এটা এজন্য যে পূর্ব থেকেই একটি নিশ সিলেক্ট করে ওয়েবসাইট শুরু করলে অনেক দ্রুত সাফল্য পাওয়া যায়।

এছাড়াও এটি করলে নিজের কাজ করতেও অনেক সুবিধা হয়।

আপনি যদি আপনার সাইট একটি নির্দিষ্ট নিশের মধ্যে না রাখেন, তবে আপনি আজ এ টপিকস তো কাল সে টপিকস এভাবে অসংখ্য বিষয় নিয়ে আপনার সাইটে আলোচনা করা শুরু করবেন ও তাতে আপনি ও আপনার অডিয়েন্স উভয়ই বিরক্ত হবে।

তো কি হতে পারে আপনার সাইটের নিশ?

অজস্র নিশ আছে যার মধ্যে থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের নিশ।

এখানে কিছু নিশের আইডিয়া দেয়া হলো:

  • কোনো প্রোডাক্ট
  • মোটিভেশনাল
  • ওয়েট লস
  • ডায়েট
  • ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়েব ডিজাইনিং
  • গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
  • হোম ডেকোরেশন
  • ক্যরিয়ার ডেভেলপমেন্ট
  • ইনফরমেশন
  • অনলাইনে আয়
  • ফ্রিল্যান্সিং
  • ব্লগিং
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ভ্রমণ
  • লাইফ হ্যাক
  • হেলথ টিপস
  • বিউটি টিপস
  • রান্নাবান্না
  • ব্যবসায়িক আইডিয়াস
  • ব্যবসায়িক পরামর্শ
  • শেয়ার বাজার
  • নিউজ
  • জোকস
  • উক্তি
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • এস ই ও
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • পড়াশুনা ইত্যাদি

তবে আপনি যখনই আপনার সাইটের নিশ সিলেক্ট করবেন, তখন ২ টি জিনিস মাথায় রাখবেন।

এ ২ টি জিনিস হলো:
১. আপনার পছন্দ
২. আপনার জ্ঞান

এখন এ দুটিকে একটি ভাঙিয়ে বলি।

আপনি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করেন, তার ওপর আপনার সাইটটি খুলুন, তাহলে দেখবেন যে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লিখতে মজা লাগছে।

আর একই সাথে আপনাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনার পছন্দের বিষয়টি সম্পর্কে আপনি যথেষ্ট পরিমানে জানেন।

এটা এমন নয় যে আপনার অনেক কিছুই জানতে হবে, তবে কিছু খুঁটিনাটি প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে আপনি পরবর্তীতে রিসার্চ এর মাদ্ধমে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন যেহেতু বিষয়টি আপনার পছন্দের।

অনেকেই আছে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং ও এডসেন্স থেকে আয় করার মিশনে নামার আগেই বিভিন্ন প্রফিটেবল নিশের খোঁজ করে।

আসলে এসব কোনো কাজে আসে না কারণ আপনার যদি আপনার বিষয়টি পছন্দই না হয়, তবে আপনি কিছুদিনের মধ্যে আপনার কাজ ছেড়ে দেবেন এটাই স্বাভাবিক।

তাহলে এবার আপনাকে প্রশ্ন করার পালা।

আপনি কোন বিষয়সমূহ সবথেকে বেশি পছন্দ করেন?

আপনার একাধিক পছন্দের বিষয় থাকতে পারে এবং একটি কাগজ ও একটি কলম নিয়ে সবকটি বিষয় লিখে ফেলুন।

এবার এদের মধ্যে থেকে একটিকে বাছাই করুন।

বাছাই করে দুই-একদিন চিন্তা করুন যে আপনার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে কিনা তারপর পরবর্তী ধাপে যান।

স্টেপ ২: প্রোডাক্ট বাছাই করা

নিশ সিলেক্ট হয়ে গেলে এরপর আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রোডাক্টসমূহ সিলেক্ট করতে হবে। আপনি যদি নিশ সিলেক্ট করে ফেলেন তখন আপনার প্রোডাক্ট সিলেকশন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সব থেকে বড় কথা হল যে আপনি অজস্র প্রোডাক্ট প্রোমোট করে খুব ভালো করতে পারবেন না। আপনি সেই সমস্ত প্রোডাক্ট প্রোমোট করবেন যে সমস্ত প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনি ভালো মত জানেন। আর সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি প্রোডাক্টগুলো নিজেই ব্যবহার করে ভাল রেজাল্ট পেয়ে থাকেন।

স্টেপ ৩: ওয়েবসাইট তৈরী করা

নিশ ও প্রোডাকট সিলেকশন হয়ে গেলে এবার আপনাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে। এই ওয়েবসাইটটি আপনি নিজেই খুলবেন। আমি আবারও বলছি কারো কাছে ধর্না দেবেন না ওয়েবসাইট খোলার জন্য। এটা এজন্য যে আপনি যদি নিজেই আপনার ওয়েবসাইট খুলেন তবে তা হবে সর্বোচ্চ সিকিউরিটির ব্যাপার এবং ওয়েবসাইট খোলা খুবই সহজ একটি ব্যাপার যা আমি এই লিংকে দেখিয়েছি

স্টেপ ৪: ওয়েবসাইট সেটআপ করা

শুধু ওয়েবসাইট খুলে বসে থাকলেই হবে না আপনাকে ওয়েবসাইটটি ঠিকঠাক মত সেটআপ করে নিতে হবে। এই সেটআপ করে নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই লিংকে।

তো আপনি উক্ত লিংক থেকে ওয়েবসাইট সেটআপ এর সম্পূর্ণ ব্যাপারটি দেখে নিন ও আপনার ওয়েবসাইটটি সেটআপ করে ফেলুন।

স্টেপ ৫: ওয়েবসাইট অপারেট করা শেখা

ব্যাস! আপনার ওয়েবসাইটটি সুন্দর মত সেটআপ হয়ে গেছে। এখন আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হল ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট টুকটাক ব্যবহার করতে শিখতে হবে যদি আপনি ইতোমধ্যে এটি না শিখে থাকেন।

এটি কিন্তু খুব কঠিন কিছু না। এ কাজটি খুবই সহজ। একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট অপারেট করা ফেসবুক চালানোর মত সহজ এবং আপনি তা এই গাইডে পাবেন।

স্টেপ ৬: এস ই ও (SEO) শেখা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন আর এস ই ও জানবেন না এটি হবে না কারণ এসইও জানতে হবে এ কারণে যে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন তথা গুগল, ইয়াহু এরকম সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক বা ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে হবে। আর এজন্য আপনাকে আপনার আর্টিকেল বা কনটেন্ট সমূহ rank করাতে হবে।

কিন্তু আপনি যদি এসইও ভালোমতো না করতে পারেন তাহলে আপনার কনটেন্ট rank করবে না আর rank না করলে আপনি ওয়েবসাইট ভিজিটর ও পাবেন না।

এসইও শিখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও এসইও পুরোপুরি শিখে নিন।

স্টেপ ৭: কনটেন্ট তৈরী করা

এসইও শিখে গেলেন খুবই ভালো কথা। এবার আপনার যে কাজটি করতে হবে এটি হলো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

হ্যাঁ বন্ধুরা আপনার সাইটের জন্য এখন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তো একটি ওয়েবসাইট এর জন্য মেইন কন্টেন্ট হল আর্টিকেল বা ব্লগ পোষ্ট।

তো আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য বেশি বেশি আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট তৈরি করতে হবে। যত বেশি ভালো কনটেন্ট আপনার সাইটের জন্য তৈরি করতে পারবেন ততবেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে পারবেন।

আপনি যত বেশি ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে পারবেন ততবেশি প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন, তাই এফিলিয়েট কমিশন ততো বেশি পাওয়া যাবে।

তো নিচে আমি একটি লিংক দিয়েছি সেখানে সুন্দর আর্টিকেল লেখার নিয়ম কানুন দেওয়া আছে আপনি সেটি ফলো করে নিয়মিত ভালো ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে থাকুন ও তা আপনার সাইটে পাবলিশ করুন।

স্টেপ ৮: ওয়েবসাইট ভিজিটর নিয়ে আশা

ভালো কনটেন্ট তৈরি করার পরে আপনার কাজ শেষ না। এরপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আপনাকে ব্যস্ত থাকতে হবে। সেটি হল আপনার সাইটে বেশি বেশি ভিজিটর নিয়ে আসা।

এই জিনিসটা অন্যের উপর ভরসা করে থাকলে হবে না। আপনার নিজেরও চেষ্টা করতে হবে যে কিভাবে আপনার সাইটে বেশি বেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর নিয়ে আসা যায়। তো আমরা কিছু ট্রাফিক জেনারেশন টেকনিক আপনাকে বলে দিতে পারি। এর বাইরে ও আপনি আপনার নিজস্ব টেকনিক এপ্লাই করতে পারেন। যে টেকনিকই এপ্লাই করেন না কেন সেটি যেন হয় বৈধ।

নিচে ওয়েবসাইট ভিজিটর আনার বিভিন্ন পদ্ধতি দেখানো হলো।

স্টেপ ৯: ইমেইল কালেক্ট করা

অনেকেই বলে থাকে মানি ইজ ইন দ্য লিস্ট।

হ্যাঁ এটি সত্য কথা।

আপনার যত বেশি ইমেইল সাবস্ক্রাইবার থাকবে, তত বেশি আপনি আফিলিয়েট কমিশন পাওয়ার আশা করতে পারেন। এর কারণ হলো যারা আপনাকে তাদের ইমেইল দিচ্ছে যে আপনি তাদেরকে আপনার কন্টেন্ট পাঠান তারা কিন্তু আপনাকে বিশ্বাস করে দিচ্ছে।

আপনার কনটেন্ট তাদের ভালো লাগে এজন্যই দিচ্ছে। তো তাদের সাথে প্রতারণা করা যাবেনা। তাদেরকে আপনি আপনার ভালো কনটেন্ট পাঠান এবং এই কনটেন্টে আপনার কিছু এফিলিয়েট প্রোডাক্টস রেকমেন্ড করে দিতে পারেন।

এজন্য একেবারে প্রথম থেকেই যেদিন থেকে আপনি আপনার সাইটে কনটেন্ট শুরু করছেন সেদিন থেকে ইমেইল কালেক্ট করা শুরু করুন। ইমেইল কালেক্ট করার জন্য আমি একটি ইমেইল মার্কেটিং কোর্স এর লিংক দিচ্ছি, তাই ইমেইল মার্কেটিং কোর্সটি করে নিন সম্পূর্ণ ফ্রি।

স্টেপ ১০: এফিলিয়েট প্রোডাক্ট সাইনআপ করে তা প্রমোট করা

এবার আপনার ইনকাম করার পালা। হ্যাঁ বন্ধু আপনার এখন যে কাজটি করতে হবে সেটি হল বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে হবে এবং এই কাজটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে করা যায়।

আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মার্কেটপ্লেসে যেয়ে সাইন আপ করুন এবং সেখান থেকে আপনার ইউনিক এফিলিয়েট লিংক কালেক্ট করুন এবং ওই লিংকসমূহ আপনার আর্টিকেলের বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত করুন।

যখনই কোনো ট্রাফিক বা আপনার কোন ভিজিটর ওই লিংকে ক্লিক করে আপনার রেকমেন্ডেড প্রোডাক্টটি কিনবে তখনই কিন্তু আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন। তাই এর থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ভালো প্যাসিভ ইনকাম আর হয় না।

তো বন্ধুরা আশা করি আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন তার আদ্যোপান্ত একটি সুন্দর ধারণা পেয়েছেন এবং কন্টেন্টে দেয়া যে বিশদ গাইডের লিঙ্ক গুলা আছে সেই গাইড গুলো ফলো করলে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং এ অনেক ভালো করতে পারবেন।

তো আজ এই পর্যন্তই।

একটি ছোট্ট অনুরোধ! আমার এই কন্টেন্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(ধন্যবাদ)

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান আর ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

3 thoughts on “এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো তার সঠিক দিক নির্দেশনা”

  1. ধন্যবাদ স্যার। অনেক কিছু শিখলাম। আমি আপনারকাছ থেকে এসবের আরো খুটিনাটি শিখতে চাই। কিভাবে আপনার সাথে যোগাযোগ করবো?

Leave a Comment