ইউটিউবার হওয়ার উপায়: ১৩ টি ধাপ অতিক্রম করে হয়ে যান ইউটিউবার!

ইদানিং অনেককেই বলতে শোনা যায় যে আমি ইউটিউবার হতে চাই তো আমাকে কি করতে হবে।

 

তো এমনটি যারা বলেন তাদের জন্য আমার আজকের এই কনটেন্টটি। আপনাদের মধ্যে যারা ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গাইড হিসেবে খুবই কাজে দেবে, তাই কনটেন্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবে মনোযোগ সহকারে দেখতে থাকুন এবং এর ধাপগুলো একে একে অনুসরন করুন।

 

আর পয়েন্টগুলি যাতে করে ভুলে না যান সেজন্য তা আপনার নোটবুকে বা মোবাইলের নোটপ্যাড এ সেভ করে রাখুন।

 

ইউটিউবার হওয়ার উপায়!

ইউটিউবার হতে কি লাগে তা এখন আমরা একে একে জেনে নেব। তো দেরি না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

 

১। প্রবল ইচ্ছা

কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় আর আপনার যদি ইউটিউবার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে আপনি একজন ইউটিউবার হতে পারবেন।

 

তো আসল কথা হল যে আপনি যাই করতে চান না কেন তার পিছনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আপনার ইচ্ছা। তো ইউটিউবার হতে গেলে আপনার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। আপনার কি ইউটিউবার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে?

 

যদি থেকে থাকে তবে আপনাকে প্রো ইউটিউবার ডট কম এ আরো একবার স্বাগত জানাচ্ছি।

 

২। ভিডিও বানানোর প্রতি ভাললাগা

ভিডিও তৈরি করা একটি সৃজনশীল কাজ আর এ সৃজনশীল কাজটা কিন্তু সবার কাছে ভালো লাগে না।

 

তো আপনার কাছে ভিডিও মেকিং কেমন লাগে এটি আগে জেনে নেওয়া দরকার। একটু নিজেকে প্রশ্ন করুন তো যে ভিডিও বানাতে আপনার কাছে কি ভালো লাগে নাকি অনেকটাই ঝামেলার মনে হয়।

 

স্বাভাবিকভাবে আপনার ফোনের ক্যামেরার দিকে লক্ষ্য করেই এই প্রশ্নটি করুন। যদি আপনি একটি সহজ উত্তর পেয়ে যান তাহলে ইউটিউবার হতে আর ঠেকায় কে! এগোতে থাকুন পরবর্তী ধাপসমূহ অনুসরণ করে।

 

৩। ইউটিউব চ্যানেলের নিশ বাছাই

এবার আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি নিশ সিলেক্ট করতে হবে। আপনার কাছে এ বিষয়টি নতুন বলে মনে হতে পারে তার জন্য আমি এটিকে একটু ভাঙিয়ে বলছি।

 

নিশ হল আপনি ইউটিউবে যে বিষয়ের উপর ভিডিও বানাবেন। অনেকেই ইউটিউব এ ফেইল করে তার কারণ হলো তারা আজ একটি বিষয়ের উপর ভিডিও দেয় কাল আর একটি বিষয়ের উপর ভিডিও দেয়। এতে করে যেমন তাদের কাজের কোন ধারাবাহিকতা থাকে না একইভাবে তাদের অডিয়েন্সরাও বিরক্ত হয়ে যান।

 

এটা কেমন যেন একটু পাগলের মত বিহেভিয়ার বলে মনে হয় কারণ স্বাভাবিকভাবে একজন পাগল কখন কি করে তার ঠিক নেই। তাই আপনার চ্যানেলটিকে যদি একটি সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারীর চ্যানেল হিসেবে প্রমাণ করতে চান তবে অবশ্যই অবশ্যই আপনাকে প্রথমে একটি সুন্দর নিশ সিলেক্ট করতে হবে।

 

নিশ বাছাইয়ের জন্য আমি আরো অনেক কনটেন্ট দেবো যা থেকে আপনি এটি ভালোমতো শিখে নিতে পারবেন।

 

৪। ইউটিউব চ্যানেল তৈরী করা

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নিশ সিলেকশন হয়ে গেলে এখন আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। নিশ বাছাইয়ের পর আপনার ইউটিউব চ্যানেলের একটি সুন্দর নাম সিলেক্ট করাও সহজ হয়ে যাবে।

 

যাই হোক একটি নিশ রিলেটেড সুন্দর নাম বাছাই করুন এবং সে নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলুন। কিভাবে ইউটিউব চ্যানেলের একটি সুন্দর নাম রাখবেন ও চ্যানেল কিভাবে খুলবেন তা নিয়ে আমি আরো ভিডিও দিবো যেখান থেকে আপনি বিষয়টি শিখে নিতে পারবেন।

 

৫। চ্যানেলটিকে ঠিকঠাকভাবে সেটিং করা

সুন্দর নামে একটি চ্যানেল খুলেই ভাববেন না যে আপনার কাজ শেষ, বরং এখন থেকেই কাজ শুরু।

 

এখন আপনাকে চ্যানেলটিকে সঠিকভাবে সেটআপ করে নিতে হবে আর এ ক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করে থাকেন ফলে পরবর্তীতে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই কিভাবে ঠিকঠাকভাবে ইউটিউব চ্যানেল সেটআপ করবেন তা আমি সুন্দরভাবে দেখিয়ে দেবো তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

 

৬। সুন্দর সুন্দর ভিডিওর আইডিয়া বের করা

ইউটিউব এ ভিডিও বানানো একটি সৃজনশীল কাজ, তাই আপনাকে প্রতিনিয়ত ক্রিয়েটিভিটির পরিচয় দিতে হবে।

 

আপনি যদি ভেবে থাকেন যে অন্যান্য আর দশজনের ভিডিও ফলো করে আপনিও সেরকম ভিডিও বানিয়ে ফেলবেন তাহলে ভুল করছেন কারণ এখানে ইউনিকনেস একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনার ভিডিওর মধ্যে যদি আপনার আলাদা সত্ত্বার প্রকাশ না ঘটে তবে কিন্তু আপনার অডিয়েন্স আপনাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করবে না!

 

দেখবেন যে আপনাকে তারা একজন কপিক্যাট হিসেবে অভিহিত করছে এবং আপনাকে রিজেক্ট করছে। তাই সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানানোর আইডিয়া বের করতে হবে।

 

আমি আপনাকে শিখিয়ে দেবো যে কিভাবে আপনি ভিডিও বানানোর আইডিয়া পেতে পারেন যা থেকে আপনি অনেক উপকৃত হবেন। তাই এ ব্যাপারটি নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কিছু নাই।

 

৭। প্রয়োজনীয় কিছু টুলস ম্যানেজ করা

এবার এ ধাপে আপনার ইউটিউবিং এর জন্য কিছু টুলস ম্যানেজ করতে হবে। ইউটিউব এর জন্য যে ভিডিও তৈরি করবেন তার জন্য কিছু টুলস এর প্রয়োজন আর সকল টুলসগুলো যে আপনাকে কিনে নিতে হবে তা নয় কারণ হয়তো বা ইতোমধ্যে আপনার কাছে অনেক টুলসই আছে আবার অনেক টুলস ফ্রী পাওয়া যায় তাই আমি এখানে এই টুলসগুলো ম্যানেজ করার কথা বলছি।

 

তো ইউটিউবিং করতে গেলে কি কি টুলস প্রয়োজন তার একটি লিস্ট আমি আরেকটি ভিডিওতে বিশদভাবে জানাবো। আপনি সেই ভিডিও থেকে অবশ্যই সব টুলস গুলি ম্যানেজ করার চেষ্টা করবেন।

 

৮। একটি সুন্দর রুটিন তৈরী করা

কোন কাজে সফলতা পাবার জন্য জরুরী নিয়ম মাফিক কাজ করা আর এর জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর রুটিন। সুন্দর রুটিন বলতে বোঝানো হচ্ছে যে রুটিনটি আপনি খুব সুন্দর ভাবে ফলো করতে পারবেন।

 

অনেককে দেখা যায় তারা নিজের দক্ষতার সাথে বেমানান একটি রুটিন তৈরি করে তার মানে আমি এখানে বোঝাচ্ছি যে তার হয়তো দক্ষতা যে সে একটি কাজ করতে পারে কিন্তু সে এমন রুটিন করে যে সে দুটি বা পাঁচটি কাজ করবে।

 

এক্ষেত্রে যখনই সে রুটিনটি ফলো করতে পারে না তখন তার মনে হতাশা কাজ করে আর এ থেকে পরবর্তী দিনসমূহে কোন কাজ না করেই অকেজো বসে থাকতে হয়। তাই এমন একটি রুটিন করুন যা খুব বেশিও নয় আবার কমও নয় এবং আপনার দক্ষতার সাথে মানিয়ে যায় তাহলে দেখবেন আপনি খুব সুন্দরভাবে রুটিন ফলো করতে পারছেন আর রুটিন ফলো করা মানে তো বুঝতেই পারছেন।

 

নিয়মানুবর্তিতার সাথে কোন কাজ করতে পারলে সে কাজে সফলতা পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক।

 

৯। নিয়মিত ভিডিও বানানো

আমি যে একটি রুটিন বানানোর কথা বললাম এটি এজন্য বললাম যে আপনি যাতে করে রুটিনটি ফলো করে নিয়মিতভাবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও বানাতে থাকেন।

 

হ্যাঁ, আপনাকে নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে যেতে হবে। অনেকেই ইউটিউব এর সফলতার রহস্য জানতে চান, কিন্তু ইউটিউবে সফল হতে গেলে মূল রহস্য হলো নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে তা পাবলিশ করা।

 

আপনি অনেক ইউটিউব চ্যানেল দেখবেন যে চ্যানেলের ভিডিওর মান অতটা ভালো না তারপরও সেই চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার এবং ভিউ অনেক। এর একটি কারণ সেটি হলো যে ওই চ্যানেলে নিয়মিত ভিডিও পাবলিশ করা হয় আর গুগলের মন-মানসিকতা যারা জানে তারা নিয়মিত তাদের ওয়েব কনটেন্ট পাবলিশ করতে থাকে।

 

হ্যাঁ, যেহেতু ইউটিউব গুগলের একটি প্রোডাক্ট তাই ইউটিউবেও ঠিক একই রকম অ্যালগরিদম কাজ করে। যে চ্যানেল থেকে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা হয় বা পাবলিশ করা হয়েছে ওই চ্যানেলটিকে ইউটিউব খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখে এবং ওই চ্যানেলের ভিডিও ভাইরাল করতেও তারা খুবই সচেষ্ট থাকে।

 

১০। সঠিকভাবে ভিডিও আপলোড করা

শুধু নিয়মিত ভিডিও বানালে চলবে না। ওই ভিডিওগুলো সঠিকভাবে আপনাকে আপনার চ্যানেলে পাবলিশ করতে হবে আর তাহলেই আপনি ভালো রেজাল্ট পাবেন।

 

তাই আপনার প্রথমেই শিখে নেওয়া উচিত যে কিভাবে ইউটিউব এ সঠিক উপায়ে ভিডিও পাবলিশ করতে হয় আর এর পরে সেই উপায়গুলো ফলো করে আপনি আপনার চ্যানেলে নিয়মিতভাবে ভিডিও পাবলিশ করতে থাকুন।

 

১১। ভিডিও নিয়মিতভাবে প্রমোট করা

ভালো একজন ইউটিউবার হতে গেলে আপনাকে শুধু ভিডিও পাবলিশ করে বসে থাকলে হবে না। সাথে সাথে আপনাকে তা প্রমোট করতে হবে। এটি এজন্য করতে হবে যাতে করে বেশি বেশি মানুষ আপনার ভিডিও সম্পর্কে জানতে পারে।

 

তো প্রথমে আপনাকে বেশি বেশি প্রমোট করতে হবে। এর পরে দেখবেন যে অটোমেটিকলি অনেকেই যখন আপনার ভিডিও সম্পর্কে জানছে তখন আপনার আর অত বেশি কষ্ট করতে হবে না। তবে প্রথম দিকটায় অনেক বেশি খাটাখাটনি করতে হয় তাই বিভিন্ন উপায়ে আপনার ভিডিও প্রমোট করতে থাকুন।

 

আমি ভিডিও প্রমোট করার বিভিন্ন উপায় আপনাকে দেখাবো যা যথাযতভাবে ফলো করলে আপনি খুবই ভাল ফলাফল পাবেন বলে আশা রাখছি।

 

১২। কাজ চালিয়ে যাওয়া

আর এভাবে আপনাকে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। কাজ করতে থাকুন তবেই দেখবেন যে একে একে সফলতা আপনার হাতে এসে ধরা দিচ্ছে। তো এখানে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর তা এই যে আপনাকে কিন্তু এক থেকে এই যে ১৩ টি ধাপ সব কিন্তু প্রতিনিয়ত ফলো করতে হচ্ছে না এর কারণ হলো ১ থেকে ৮ পর্যন্ত এই কাজগুলো হলো এককালীন। এর পরের ৯, ১০, ১১ এই তিনটি ধাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

আপনাকে আজীবন (যেহেতু আপনি ইউটিউবার হিসেবে আজীবন থাকতে চাচ্ছেন) ৯, ১০, ১১ নাম্বার ধাপ চালিয়ে যেতেই হবে। এখানে উল্লেখ্য যে টুলস ম্যানেজ করার কথা যে ধাপটিতে বললাম তা মাঝে মাঝে আপডেট করতে হবে কারণ প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন টুলস এর আবির্ভাব হচ্ছে আর আপনাকে সবসময় আপডেটেড থাকতে হবে। যাই হোক এটাই হল ব্যাপার। আপনাকে নিয়মিত এভাবেই চলে যেতে হবে।

 

১৩। ইউটিউব লাইফস্টাইলে পদার্পন করা

এই ধাপটি আপনার কাছে একটু ভিন্ন মনে হতে পারে। এটি আসলে একজন ইউটিউবার এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

ইউটিউব লাইফস্টাইল বলতে বোঝানো হচ্ছে যে এমন একটি লাইফস্টাইল যেখানে আপনার কোন বস থাকছে না। আপনি হচ্ছেন আপনার নিজের বস। আপনিই আপনার নিজের সময় নির্ধারণ করছেন। আপনাকে বকাঝকা করার কেউ নেই।

 

আপনার এখানে সময়ের স্বাধীনতা থাকছে, অর্থের স্বাধীনতা থাকছে আর ফলে আপনি ভ্রমণের স্বাধীনতা পেয়ে যাচ্ছেন। তো অনলাইন লাইফস্টাইল এর এটি একটি সুবিধা যে এটি অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়।

 

কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্যময় একটি লাইফ পেতে গেলে আপনাকে প্রথমদিকে খুব পরিশ্রম করতে হবে যেটি আমি আগেও বলেছি। নিয়মিতভাবে আপনার কাজের মান বাড়িয়ে যেতে হবে। এটি আসলে একটি অটোমেটিক প্রসেস। আপনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে থাকলে অটোমেটিকলি দেখবেন যে আপনার ভিডিওর মান ভালো হয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজেও বুঝতে পারছেন না!

 

আরো দেখুন! সফল ইউটিউবার হতে ইউটিউবিং শুরুর আগে যা না জানলেই নয়

 

তো বন্ধুরা এই হল একজন ইউটিউবার হওয়ার ১৩ টি ধাপ যা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে অনুসরণ করতেই হবে। আপনি কোন একটিকে বাদ দিয়ে ইউটিউবার হওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না।

 

আজ এ পর্যন্তই। আশা করি কন্টেন্টটি ভাল লেগেছে!

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান আর ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

Leave a Comment