কিভাবে ব্লগ তৈরি করা যায় তার সহজ উপায়

আজ আমি আপনাদের ব্লগ তৈরির নিয়ম দেখাবো যা থেকে আপনি খুব সহজেই আপনার নিজের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছি।

 

আমার এই ব্লগ তৈরির টিউটোরিয়াল অনুসরণ করলে আপনাকে আর এ ব্যাপারে ভাবতে হবে না।

 

তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে মূল বিষয়টি জেনে নেই।

 

ব্লগ তৈরি করতে কি কি লাগে?

একটি ব্লগ তৈরির জন্য যা যা প্রয়োজন তা এখন জানিয়ে দিচ্ছি।

 

১) ডোমেইন

২) হোস্টিং

৩) সিএমএস (CMS)

৪) থিম

৫) এসএসএল সার্টিফিকেট (SSL)

৬) কিছু প্লাগিনস

 

তো এই ছয়টি জিনিস সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই কারণ আমি এখনি তা খুব সহজে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

 

ডোমেইন হল একটি ব্লগের ইউনিক এড্রেস যে নামে আমরা ওই ব্লগটিকে চিনি। যেমন আমার এই ব্লগের ডোমেইন হল smnzaman.com

 

আপনার ব্লগের যে নাম রাখবেন সেই নামে একটি ডোমেইন নিতে হবে যদি সেটি আগে থেকেই কেউ কিনে না নেয়।

 

হোস্টিং হল আপনার ব্লগের ফাইলগুলো অনলাইনে যেখানে রাখবেন। এই যেমন আমার এই ব্লগের ফাইলগুলো আমেরিকান একটা কম্পানি নেমচিপের একটি হোস্টিং প্যাকে সংরক্ষিত রয়েছে যেখান থেকে সারা বিশ্বের যে কেউই চাইলে আমার পাব্লিশ করা ফাইলগুলো দেখতে পাচ্ছে।

 

এরপর প্রয়োজন একটি সিএমএস বা কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আর বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) হল ব্লগিং এর জন্য সবথেকে জনপ্রিয় সিএমএস। এটি ফ্রি ইন্সটল করে নিতে পারবেন যা আমি এই পোস্টেই দেখাবো।

 

একটি ব্লগের লুক কেমন হবে তা থিমের ওপর ডিপেন্ড করে। আপনি একটি ভাল মানের থিম ব্যবহার করে আপনার ব্লগের একটা ভালো লুক নিয়ে আসতে পারেন।

 

আর অধিক নিরাপত্তার জন্য এখন এসএসএল সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে হয় যার জন্য ডোমেইনের আগে https বা একটি তালার আইকন দেখতে পাওয়া যায়।

 

আর সবশেষে কিছু প্লাগিন্স ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি একটা কমপ্লিট ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

ব্লগ তৈরির স্টেপ বাই স্টেপ গাইড

এবার আপনাকে ধাপে ধাপে আপনার ব্লগ তৈরির প্রক্রিয়াটি দেখাবো যা আসলেই খুব সিম্পল এবং যে কারোরই পারার কথা। একে একে প্রতিটি স্টেপ ভালোভাবে অনুসরণ করুন।

 

স্টেপ ১. হোস্টিং কোম্পানির সাইটে যান

একটি ব্লগ খুলতে প্রথমেই দরকার হবে ভালো মানের একটি ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি পছন্দ করা, তবে সে ক্ষেত্রে লোকাল কোনো হোস্টিং কোম্পানি ভুলেও বেছে নেওয়া যাবে না।

 

আপনাকে সরাসরি আমেরিকান কোনো ভালো মানের কোম্পানির কাছ থেকে আপনার ব্লগ সাইটের ডোমেইন ও হোস্টিং নিতে হবে যদি আপনি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও পারফরমেন্স চান।

 

অনেকেই যেন তেন কম্পানির কাছ থেকে ডোমেইন ও হোস্টিং নেন এবং বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন তাই সাবধান।

 

তো প্রথমেই আপনাকে একটি ভালো ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির সাইটে যেতে হবে।

 

আমি আমার অধিকাংশ সাইট Namecheap এ হোস্ট করেছি ও ভালো সার্ভিস পাচ্ছি।

 

আপনার উচিত এমন একটি কোম্পানি থেকে আপনার সাইটের যাবতীয় জিনিস ক্রয় করা।

 

এখানে ক্লিক করে Namecheap এর সাইটে প্রবেশ করুন।

 

দেখুন এখানে আপনি বিভিন্ন শেয়ারড হোস্টিং প্যাকগুলোর বাৎসরিক খরচ দেখতে পারছেন যেখানে ৫০% ডিস্কাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে।

namecheap shared hosting

স্টেপ ২. আপনার পছন্দের হোস্টিং প্যাকটি বেছে নিন

এবার আপনাকে আপনার পছন্দের হোস্টিং প্যাকটি বেছে নিতে হবে।

 

Namecheap এর বর্তমানে ৩ টি শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ রয়েছে যার মধ্যে শুরুতে প্রথম প্যাকটিই যথেষ্ট।

namcheap shared

তো তিনটি হোস্টিং প্যাকের মধ্যে থেকে যেকোনো একটি বাছাই করুন।

 

স্টেপ ৩. হোস্টিংটি কিনুন

এবার আপনাকে আপনার পছন্দের হোস্টিংটি কিনতে হবে আর এজন্য আপনার বাছাই করা হোস্টিং প্যাকেজটির নিচে থাকা Get Started বাটনে ক্লিক করুন।

 

দেখবেন যে তা একটি নতুন পেইজ ওপেন করবে।

 

স্টেপ ৪. আপনার সাইটের ডোমেইনটি কিনুন

নতুন এই পেইজটি মূলত আপনার ব্লগের ডোমেইন কেনার জন্য একটি অপশন নিয়ে আসবে যেখানে নিচের দিকে Search for domains নামে একটি বক্স পাবেন।

search domain

এই বক্সে আপনার ব্লগের জন্য ঠিক করা ডোমেইনটি বসাতে হবে।

 

আপনার ডোমেইন এর এক্সটেনশনটি .com এ বেছে নেওয়াই ভালো এই যেমন xyz.com, abc.com ইত্যাদি।

 

এবার আপনার ডোমেইন এর নামটি ওই বক্সে বসালে তা এভেইলেবল আছে কিনা তা জানতে পারবেন।

 

যদি আপনার ডোমেইনটি এভেইলেবল থাকে তার মানে হলো যদি ওই ডোমেইনটি আপনার আগে আর কেউ না কিনে ফেলে, তবে আপনি আপনার ডোমেইন এর পাশে একটি টিক মার্ক দেখতে পাবেন।

 

নিচে দেখুন যে আমি আপনাকে দেখানোর জন্য একটি স্যাম্পল ডোমেইন নেইম beautytipsbangla001.com দিয়ে ট্রাই করেছি ও তার পাশে একটি টিক মার্ক দেখতে পাচ্ছেন –

তো আপনার ডোমেইনটি এভেইলেবল থাকলে একই রকম টিক মার্ক দেখতে পাবেন।

 

এবার নিচের Connect to Hosting বাটনে ক্লিক করুন।

 

স্টেপ ৫. টোটাল বিল দেখুন

এবার আপনি আপনার টোটাল বিল দেখতে পাবেন।

এই দেখুন ওপরে মোট ২৬ ডলার ৩৪ সেন্ট বিল দেখাচ্ছে।

 

তো এবার আপনাকে Add to Cart বাটনে ক্লিক করতে হবে যা পরবর্তী পেইজে নিয়ে যাবে।

 

স্টেপ ৬. অর্ডার কন্ফার্ম করুন

এই ধাপে আপনাকে আপনার বাছাই করা সমস্ত সার্ভিসগুলো কেনার জন্য কন্ফার্ম করতে হবে।

 

আপনি আপনার শপিং কার্টে আপনার বাছাই করা সমস্ত সার্ভিসগুলো দেখতে পাবেন।

 

এবার আপনার অর্ডার কনফার্ম করে পেইমেন্ট করার পালা।

 

এজন্য Confirm Order বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে আপনার ব্লগ তৈরির মোট খরচ পড়ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা। এটি প্রথম বছরের জন্য প্রযোজ্য।

 

স্টেপ ৭. সাইন আপ বা সাইন ইন করুন

উক্ত বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে Namecheap এ একটি ফ্রি একাউন্ট খোলার জন্য সাইন আপ (যদি আগে থেকে কোন একাউন্ট না থেকে থাকে) অথবা সাইন ইন (যদি ইতোমধ্যে Namecheap এ আপনার একাউন্ট থেকে থাকে) করতে হবে।

namecheap-hosting-9-sign-in-or-sign-up

তো SIGN UP বা Sign in and Continue বাটনে ক্লিক করে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন অথবা একটি নতুন একাউন্ট খুলুন।

 

এরপর আপনার পেমেন্ট পরিশোধের পর আপনি আপনার ইমেইল ইনবক্সে কয়েকটি ইমেইল পাবেন।

 

গুরুত্বপূর্ণ! আপনার নিজের ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড না থাকলে আপনি খুব সহজেই ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে একটি একোয়া প্রিপেইড ডেবিট মাস্টারকার্ড (AQUA MasterCard) করিয়ে নিতে পারেন যা মাত্র ৫৭৫ টাকায় (ভ্যাটসহ) পাওয়া যায়।

 

এছাড়া আপনার পরিচিত কোনো অনলাইন প্রফেশনাল যেমন কোন ফ্রিল্যান্সার এর কাছ থেকে তার কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

 

ওপরের কোনোটিই সম্ভব না হলে আমার সাথে যোগাযোগ করুন এই ইমেইল এড্রেসেঃ smn.zaman@gmail.com

 

আমি আপনার হয়ে আমার মাস্টারকার্ড দিয়ে পেমেন্ট করে দেব।

 

স্টেপ ৮. ইমেইল চেক করুন

ইমেইলগুলো চেক করুন ও তা থেকে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের কন্ট্রোল প্যানেল বা cPanel এর URL ,ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পাবেন।

 

স্টেপ ৯. cPanel এ প্রবেশ করুন

এবার ওই ইমেইল থেকে URL বা লিংকে ক্লিক করে আপনার কন্ট্রোল প্যানেলে যেয়ে ইউজারনেমপাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার সাইটের কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশ করুন।

namecheap-hosting-10

 

স্টেপ ১০. ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করুন

cPanel থেকে আপনাকে আপনার সাইটের জন্য একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS) ইনস্টল করে নিতে হবে।

 

এজন্য আপনাকে সফটাকুলাস (Softaculous) নামে একটি অন ক্লিক ইনস্টলার ব্যবহার করতে হবে।

 

cPanel এর নিচে যেতে থাকুন ও Softaculous নামে একটি সেকশন পাবেন।

namecheap-hosting-11

WordPress এ ক্লিক করলে Install Now নামে একটি বাটন পাবেন।

namecheap-hosting-12

উক্ত বাটনে ক্লিক করলে কয়েকটি সেকশন সম্বলিত একটি ফর্ম দেখতে পাবেন।

 

প্রথম সেকশনটি হলো Software Setup যেখানে আপনাকে কয়েকটি জিনিস সিলেক্ট করে নিতে হবে।

namecheap-hosting-13

প্রথমেই http:// এর পরিবর্তে https:// সিলেক্ট করুন কারণ আপনার সাইটটিতে SSL ব্যবহার করবেন তাই।

 

এরপর আপনার সদ্য কেনা ডোমেইনটি সিলেক্ট করুন এবং In Directory ঘরটি খালি রাখুন।

 

এবার দ্বিতীয় সেক্শনে (Site Settings) যান যেখানে আপনার সাইটের নাম ও সাইটের ডেসক্রিপশন লিখতে হবে।

namecheap-hosting-14

তো প্রথম ঘরে আপনার সাইটের নাম ও দ্বিতীয় ঘরে আপনার সাইটের একটি স্লোগান লিখুন।

 

এবার তৃতীয় সেকশনটিতে যান যেখানে আপনার সাইটের এডমিন ইউজারনেমপাসওয়ার্ড সিলেক্ট করতে হবে।

namecheap-hosting-15

এডমিন ইউজারনেম হিসেবে admin বা আপনার নাম সিলেক্ট না করে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করুন যা আপনার সাইটটিকে হ্যাকারদের হাত থেকে করবে আরো বেশি নিরাপদ।

 

একই সাথে একটি কঠিন পাসওয়ার্ড সিলেক্ট করুন।

 

সবশেষে নিচের Install বাটনে ক্লিক করলেই ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল শুরু হয়ে যাবে।

namecheap-hosting-16

কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার সাইটটি রেডি হয়ে যাবে।

 

এবার আপনার Namecheap একাউন্টে সাইন ইন করুন ও আপনার ডোমেইনের পাশে লেখা Manage বাটনে ক্লিক করুন।

 

NAMESERVERS এ যেয়ে দেখুন সেখানে Namecheap BasicDNS আছে।

 

এটিকে পাল্টিয়ে Namecheap Web Hosting DNS সিলেক্ট করে দিন। কয়েক মিনিটের মধ্যে তা সেভ হয়ে যাবে।

 

এবার আপনার সাইটে ভিজিট করতে পারবেন যদি আপনার ডোমেইনের প্রোপাগেশন কমপ্লিট হয়ে থাকে। সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নতুন কেনা ডোমেইনের প্রোপাগেশন কমপ্লিট হয়ে যায়।

 

তো এই সময়টুকু একটু ধৈর্য্য ধরুন যতক্ষণ না আপনার ডোমেইনটি প্রোপাগেট হয়ে যায়।

 

আপনার ডোমেইনটি প্রোপাগেট হয়ে গেলে এবার যেকোনো ব্রাউসারে যেয়ে আপনার সাইটে ভিজিট করুন।

 

এবার আপনার সাইটের ওয়েব এড্ড্রেসের ডানদিকে একটি স্ল্যাশ / চিহ্ন দিন ও তারপর লিখুন wp-admin/ ও এন্টার চাপুন।

 

দেখবেন আপনার সাইটের ড্যাশবোর্ডের লগইন পেইজ দেখাচ্ছে।

 

এখানে আপনার ইমেইল এড্রেস বা ইউজারনেমপাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার সাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন।

 

এই ড্যাশবোর্ডের সাহায্যে আপনি আপনার ব্লগটি কন্ট্রোল করতে পারবেন।

 

আগামীতে কিভাবে একটি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ ব্যবহার করতে হয় তা দেখিয়ে দেব।

 

আশা করি ওপরের গাইডটি দেখে আপনি নিজেই আপনার ব্লগটি খুলতে সক্ষম হবেন।

 

এরপরও যদি আপনি মনে করেন যে আপনি কাজটি করতে পারবেন না, তবে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

7 thoughts on “কিভাবে ব্লগ তৈরি করা যায় তার সহজ উপায়”

  1. আলহামদুলিল্লাহ, ভাইয়া। এভাবে ভালো কাজ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ

    Reply
    • আল্লাহ আপনাকে ইসলামের খেদমত বেশি বেশি করার তাওফীক দান করুন আমীন।

      Reply
  2. Vaia ami jodi blogger kinba google site a free te blog create kore career gorte cai tahole ki in future kono problem hobe??? Please vaia comment kore janaben amar jonno oneek helpful hobe

    Reply

Leave a Comment