ব্লগিং ও ইউটিউবিং আইডিয়াঃ পছন্দের বিষয়টি বেছে নিন

আসসালামু আলাইকুম

 

ব্লগিং ও ইউটিউবিং আজ শুধু শখ নয়, বরং এর মাধ্যমে এমন ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব যা আগে কল্পনাও করা যেত না।

 

আপনি আপনার নিজস্ব হোম অফিসে বসে কন্টেন্ট বানাচ্ছেন আর মাস গেলে ভাল আয়ও করছেন। দুনিয়াবী সব ফিতনা-ফ্যাসাদে জড়ানো লাগছে না এর থেকে আর সুন্দর কাজ কি হতে পারে?

 

তবে এ কাজগুলো সুন্দর হলেও এর শুরুটাতে কিন্তু বেশ বেগ পেতে হয় এই যেমন কি নিয়ে কাজ শুরু করবো, কিভাবে করবো ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করতে করতে।

 

তাই আজ আমি বেশ কিছু আইডিয়া দেব যা থেকে আপনি আপনার পছন্দের বিষয়টি বেছে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

 

ব্লগিং ও ইউটিউং নিশ আইডিয়া!

তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করি।

প্রোডাক্ট রিভিউ

কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সবথেকে প্রথমে আমরা যে জিনিসটি নিয়ে কথা বলতে পারি সেটি হল প্রোডাক্ট রিভিউ যার বাংলা বা ইংলিশ যে কোন ভাষায় চাহিদা রয়েছে।

 

আপনি যে কোন গ্যাজেট বা সফটওয়্যার নিয়ে রিভিউ করতে পারেন যে এটা কেমন, দাম কত, কোথায় পাওয়া যায়, কেনা ঠিক হবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় যা সাধারণত একজন ক্রেতা পণ্যটি কেনার আগে জানতে চায় এসব নিয়ে সুন্দর সুন্দর প্রোডাক্ট রিভিউ করতে পারেন।

 

প্রোডাক্ট রিভিউয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন রিভিউ খুবই জনপ্রিয় আর এতে খুব দ্রুত ভাল করা যায় প্লাস একইসাথে ভাল আয়েরও সম্ভাবনা থাকে।

 

এছাড়াও আপনি খাবার রিভিউ করে আপনার কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন যাও মানুষদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

 

তুলনা

কোন কিছু কিনতে গেলে মানুষের মাঝে হরমামেশাই দ্বিধাদন্দে পড়তে দেখা যায় যে এটা কিনবো নাকি ওটা কিনবো, তাই এক্ষেত্রে আপনি দুটি সমমানের প্রোডাক্টের মধ্যে তুলনা করে আর্টিকেল ও ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

 

এসবের বাংলায়ও জনপ্রিয়তা রয়েছে আর ইংলিশে এর ওপর আর্টিকেল লিখতে পারলে এফিলিয়েট কমিশন থেকে অনেক অনেক আয় করা যায়।

 

লিস্ট

এই ধরণের কন্টেন্ট বানানো খুব সহজ আর এ দিয়ে বেশ আয়ও হয় কারণ মানুষ এসব টাইপের কন্টেন্টে অনেক কয়টি প্রোডাক্টের লিস্ট পায়।

 

যেমন আপনি যদি একটি ভিডিও বানান যে “২০২০ সালের সেরা ১০ টি বাজেট মোবাইল ফোন” তাহলে অনেকেই এখান থেকে একটা না একটা মোবাইল ফোন কিনতে চাইবে।

 

তাই এরকম আর্টিকেল নিজে লিখে ও ভিডিও বানিয়ে অসংখ্য মানুষকে এ ব্যাপারে জানাতে পারেন।

 

গাইড

কোন বিষয়ের ওপর যদি আপনার খুব বেশি দখল থাকে তাহলে আপনি তার ওপর বড় বড় গাইড লিখতে ও এর ওপর ভিডিও বানাতে পারেন যা ইন্ডাস্ট্রিতে একটা আলাদা স্থান দখল করতে পারে।

 

সিক্রেট শেয়ারিং

আমাদের অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন ধরনের সিক্রেট জানেন। আপনি যদি এমন কেউ হন যে কোন বিষয়ে এমন কিছু জানেন বা পারেন তাহলে তার ওপর কন্টেন্ট বানালে খুব দ্রত বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়া যাবে বলে আশা রাখা যায়।

 

ইন্টারভিউ ও রাউন্ড আপ

আপনার যদি বিভিন্ন পরিচিত মানুষের সাথে পরিচিতি থেকে থাকে তাহলে বিভিন্ন টপিকের ওপর তাদের ইন্টারভিউ নিতে পারেন। কখনো বা একাধিক পরিচিত ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে ইন্টারভিউ নিয়ে রাউন্ড আপ পোস্ট তৈরি করলেন।

 

তো এভাবে খুব দ্রুত ভাল করা যায় কারণ সমাজের পরিচিত মুখদের অনেক ফলোয়ার থাকে যারা তাদের যে কোন কন্টেন্ট দেখতে পছন্দ করবে।

 

কেস স্টাডি ও এনালিসিস

এ ধরণের কন্টেন্টগুলো বেশ কাজের হয় কারণ এতে কোন কাজ কিভাবে করতে হয় এর জেনারেল ইনফরমেশন না দিয়ে একজন কোন কাজ কিভাবে করেছে সেটা নখদর্পণে দেখানো হয়।

 

ধরেন আপনি অনলাইনে একটা কাজ করে সফল হয়েছেন এখন এর ওপর আপনি কেস স্টাডি বানাতে পারেন যেখানে আপনার সাফল্য, ব্যর্থতা ও লাইফ লেসনস থাকবে।

 

ট্রাভেলিং

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য হতে পারে এধরণের কাজ তবে এই মহামারীতে এ ব্যাপারটা আরেকবার ভেবে দেখা উচিৎ।

 

রান্নাবান্নার রেসিপি

আপনার যদি রান্নাবান্না পছন্দ হয় তাহলে এর ওপর কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। এধরণের চ্যানেল বানিয়ে অসংখ্যা মানুষ বিশেষ করে গৃহিণীরা সফল হয়েছেন। এটা বিশেষ করে মেয়েদের জন্য খুব ভাল একটি আইডিয়া।

 

জাস্ট একটা স্মার্টফোন থাকলেই এ কাজে নেমে পড়তে পারেন।

 

ভিলেজ কুকিং

এটাও রান্নাবান্নার ব্যাপার তবে আলাদা আমেজ আছে। এটা গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে রান্নাবান্নার বিষয় দেখানো। ইন্ডিয়ার গ্রান্ডপা কিচেন, ভিলেজ কুকিং চ্যানেল, বাংলাদেশের এরাউন্ড মি বিডি ইত্যাদি চ্যানেলগুলো মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে জাস্ট এরকম কন্টেন্ট বানিয়ে।

 

মাছ ধরা

বাংলাদেশের ফিশিং বিডি নামক ইউটিউব চ্যানেল মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকাও আয় করেছে শুধুমাত্র বিভিন্ন মাছ ধরার ভিডিও দেখিয়ে।

 

আপনার যদি মাছ ধরতে ভাল লাগে তাহলে শুরু করতে পারনে এ ধরণের ভিডিও।

 

কিভাবে

যে কোন বিষয়ের ওপর কিভাবে বা হাউ টু কন্টেন্টগুলো খুব প্রয়োজনীয়। কোন কাজ কিভাবে করতে হয় তা একের পর এক আপনি মানুষদের জানাতে পারেন।

 

লাইফস্টাইল ব্লগিং

আপনি কিভাবে জীবনযাপন করছেন, কিভাবে উন্নতি করছেন এসব বিষয়ের ওপরও হতে পারে কন্টেন্ট যা মানুষ দেখতে খুব পছন্দ করে থাকে।

 

হেলথ এন্ড ফিটনেস

বলা হয় সাস্থ্য সকল সুখের মূল আর সাস্থ্য বিষয়ে যত বেশি জানবেন তত বেশি এ ব্যাপারে সচেতন হতে পারবেন। তাই সাস্থ্য বিষয়ক টপিকের প্রতি মানুষের একটা চাহিদা রয়েছে।

 

আপনার যদি এ বিষয়টি ভালো লাগে তাহলে এর ওপর আপনার পথচলা শুরু করা যেতে পারে।

 

বিউটি

সুন্দর হতে কে না চায় আর আপনি বিভিন্ন রকম টিপস শেয়ার করে মানুষকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হতে সাহায্য করতে পারেন।

 

পর্দাশীল মেয়েরাও নিজেদেরকে না দেখিয়ে জাস্ট কোনটা কিভাবে বানাচ্ছেন তা দেখিয়ে কন্টেন্ট বানাতে পারেন।

 

অনলাইনে আয়

আপনি যদি অনলাইনে কোন বিষয়ে পারদর্শী হয়ে থাকেন তবে সেটা নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। ধরেন আপনি জানেন যে কিভাবে লোগো ডিজাইন করতে হয় এবং আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে কাজ করেন। তো এর ওপর বিভিন্ন শিক্ষনীয় কন্টেন্ট তৈরি করুন।

 

আয় করার উপায়

অফলাইনেও কোন ব্যবসা সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকলে তার ওপর কন্টেন্ট বানিয়ে আয় করতে পারেন। ধরেন আপনি জানেন যে কিভাবে এক্সপোর্ট-ইম্পোরট ব্যবসা করতে হয় আর আপনার এর ওপর ভালো অভিজ্ঞতাও রয়েছে, তাহলে এ নিয়ে কাজে নেমে পড়তে পারেন।

 

চাকুরী

বিসিএস পাশ করেছেন বা আর্মিতে চান্স পেয়েছেন! হয়ে যাক না এ বিষয়ে মানুষকে সঠিক ধারণা দেওয়া। অসংখ্যা মানুষও এ থেকে উপকৃত হবে আবার আপনারও আয় হবে।

 

খবর পাঠ

শুধুমাত্র বিভিন্ন নিউজপেপারের খবর পাঠ করে জাহান নিউজ বিডি নামে বাংলাদেশের একটা ইউটিউব চ্যানেল মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছে।

 

তো এরকম সহজ কাজ করে আপনিও হতে পারেন একজন সংবাদ পাঠক।

 

খবর বিশ্লেষণ

আপনার পছন্দের বিষয়ের ওপর যেসব খবর পান তার ওপর বিশ্লেষণধর্মী কন্টেন্ট বানাতে পারেন। এর ওপর কথা বলতে আপনার মজাও লাগবে আবার মানুষও নিত্য-নতুন বিশ্লেষণ থেকে অনেক উপকৃত হবে।

 

টিউটোরিয়াল

কোন বিষয়ে দক্ষ হলে সে বিষয়ে এক এক করে টিউটোরিয়াল বানাতে থাকুন।

 

আনবক্সিং

এটা খুব সহজ। জাস্ট প্যাকেট খুলে কোন পণ্য বের করে মানুষদের দেখালেন। বাচ্চাদের খেলনা থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, অন্যান্য সামগ্রী এর আওতায় আসতে পারে।

 

সৃজনশীলতা

কোন ক্রিয়েটিভ কিছু জানা থাকলে তার ওপরও কাজ করা যেতে পারে।

 

ইসলাম প্রচার

সবশেষে ইসলাম প্রচারটাকে রাখছি এ কারনে যে এটাকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা ঠিক না তবে চ্যারিটেবল কাজে এটা হতে পারে।

 

তো যে বিষয়ের ওপরই কাজ শুরু করেন না কেন মূল উদ্যেশ্য রাখবেন মানুষের সেবা করা। আপনি কোন তথ্য দিয়ে মানুষকে সেবা করছেন এমন চিন্তা নিয়েই এগোবেন। অনেক আয় করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি ভেবে এগোলে আপনার কাজের মান খারাপ হবে আর মানুষও তেমন একটা উপকৃত হবে না।

 

আর আরেকটি বিষয় হল হাল ছেড়ে না দেওয়া। কোন কাজ শুরু করে তা নিয়মিত করে যাওয়াই হল সফলতার অন্যতম সূত্র।

 

তো আজ এ পর্যন্তই। ভাল লাগলে পোস্টটি শেয়ার করুন।

1 thought on “ব্লগিং ও ইউটিউবিং আইডিয়াঃ পছন্দের বিষয়টি বেছে নিন”

  1. ভাইয়া আপনার হাত ধরে নতুন করে পথ চলা শিখব বলে আশায় আছি । কিন্ত ৩ দিন হল কোন চ্যানেলেই কোন ভিডিও দেননা। একদিন আপনার কনটেন্ট না দেখলে যেন দিন-ই যেতে চায়না আমার।….আপনি সুস্থ্য আছেনতো !!!

    Reply

Leave a Comment