বেকারত্ব দূর করার উপায়

আসসালামুআলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন সবাই? আশা করি মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিন দিন বেকারত্বের সংখ্যা  বেড়েই চলেছে। অন্যান্য দেশগুলির তুলনায়  আমাদের দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। বেকার জীবনকে অভিশপ্ত বলা যায়। বেকার মানুষগুলির জীবন হয় অনেক দুর্বিসহ। সমাজের কাছে এরা একটি বোঝাঁ।

 

বেকার মানুষদের উঠতে বসতে অনেক মানুষের কথা শুনতে হয়, সহ্য করতে হয় অনেক কটুক্তি। কেউ কেউ এই কথাগুলি মেনে নিতে বাধ্য হয় আবার অনেকে মেনে নিতে পারে না। কেউ বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ আবার কেউ বা লিপ্ত হয় বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে। এরপর শুরু হয় সমাজে নানা ধরনের অশান্তি। এবং চুরি,ডাকাতি, চাঁদাবাজি ইত্যাদির প্রকোপ বেড়ে যায়।

 

তো হলফ করে বলা যায় সমাজে এই সব অশান্তির সৃস্টির মুল কারন এই বেকারত্ব। আজ আমি আপনাদেরকে বেকারত্ব দুরিকরনের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

 

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং এর কথা আপনারা অনেকে শুনেছেন হয়তো। ফ্রিল্যান্সিং এর নাম শুনেই অনেকে মনে করেন খুবই কঠিন একটি কাজ  কিন্তু এটি আসলে আপনাদের ভুল ধারনা । আপনারা যতটা কঠিন মনে করেন আসলে কাজটি অতটা কঠিন নয়। ফ্রিল্যান্সিং কথাটির মানে হল মুক্ত পেশা এটির মাধ্যমে আপনি আপনার ইচ্ছা সাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন। এতে আপনার কোনো বস থাকবে না আপনি আপনার নিজেরই বস তাই আপনি নিজের ইচ্ছামত করতে পারেন এবং যখন ইচ্ছা তখন আপনি কাজ করতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যমে আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে অনেক কাজ কাজ রয়েছে যেমন

• গ্রাফিক্স ডিজাইন
• লোগো ডিজাইন
• ফটোগ্রাফি
• অ্যানিমেশন ইত্যাদি

ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন অনলাইন সাইট রয়েছে সেখান থেকে বায়ার ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করে এই সব কাজের জন্য এই জন্য আপনাকে এই সব বিষয়গুলিতে খুবই পারদর্শী হতে হবে। তাহলে আপনি খুব সহজেই এই কাজ বায়ারদের কাছ থেকে পেতে পারেন এবং অনেক টাকা আয় করে বেকারত্ব দুর করতে পারেন।

 

ব্লগ রাইটিং

এখন যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি হল ব্লগ রাইটিং।  আপনারা অনেকে হয়তো খুব ভাল লেখেন। এই লেখার মাধ্যমেও আপনি আয় করতে পারবেন। কিন্তু এই লেখা  গুলি লিখতে হবে অনলাইনে এটিকেই ব্লগিং বলে। এর জন্য আপনাকে নিজের একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে এবং সেখানে প্রচুর লেখা লেখি করতে হবে। আপনি যতবেশি আকর্ষনীয় লেখা পোস্ট করবেন তত বেশি ভিউয়ার আপনার সাইটে আসবে। এবং যতবেশি ভিউ হবে তত বেশি আপনি আয় করতে হবে। এই ব্লগিং থেকে আয় করার জন্য আপনাকে প্রথমে গুগল অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে৷ এবং এর সাথে আপনাকে প্রচুর ভিউয়ার আনতে হবে আপনার সাইটে। এরপর যখন প্রচুর ভিউয়ার আসবে তখন আপনি আয়ের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন এবং আপনি যখন এপ্রুভ পাবেন তখন আপনার সাইটে এড আসা শুরু করবে এবং ভিউয়াররা যত বেশি ভিউ করবে তত টাকা আপনার একাউন্টকে জমা হতে থাকবে।

 

ইউটিউবিং

এরপর যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো সেটি ইউটিউবিং। এখনকার সময়ে ইউটিউব সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। আপনারা চাইলে এই ইউটিউব থেকেও অনেক টাকা আয় করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন প্রবল মনের ইচ্ছা আর একটি সুন্দর রুটিন করা। এবং যেই রুটিন করবেন সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। অনেকে ইউটিউবিং শুরু করা আগে ইন্সট্রুমেন্ট কিনে ৪০০০০/ ৫০০০০ টাকা নস্ট করে ফেলেন এটি আসলে আপনাদের মস্তবড় একটি ভুল। আপনাদের উচিত ইউটিউবিং যখন শুরু করবেন প্রথম আপনার যে ডিভাইস গুলি রয়েছে সে গুলি ব্যাবহার করবেন।

এরপর আস্তে আস্তে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি গ্রো করবে এবং মানিটাইজ করে যখন টাকা আসা শুরু করবে তখন আপনি দামি ইন্সট্রুমেন্ট কিনবেন। আপনে অবশ্যই ভিডিও এডিটিং জানতে হবে এবং আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। আপনার অডিয়েন্স কি চায় সেটি বুঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। এরপর আপনারে থাম্বনেইল মেকিং করতে হবে এটি আপনার ভিডিও এর মুল বিষয় আপনি যত ভালো থাম্বনেইল তৈরি করবেন আপনার ভিডিওটির ভিউ তত বেশি হবে তাই আপনাকে এই দিকটিতেও লক্ষ রাখতে হবে।

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এরপরের বিষয়টি হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সুন্দর একটি ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। সিপিএ মার্কেটিং বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় একটি পেশা। অনলাইন মার্কেটিং হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। বর্তমান সময়ে দেখা যায় বিভিন্ন মার্কেটিং অফিসার বাসায় বাসায় যে তাদের প্রোডাক্ট সেল করে বা তাদের কোনো নতুন প্রডাক্ট এর সাথে মানুষদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও ঠিক তেমনই। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনাকে মানুষের দরজায় দরজায় যে মার্কেটিং করতে হবেনা ঘরে বসেই আপনি কাজটি করতে পারবেন। এবং তা অল্প সময় কাজ করে।

 

এর জন্য আপনাকে অনলাইনে জনপ্রিয় শপিং ওয়েবসাইট গুলির  প্রমোটর হতে হবে এবং আপনার ইচ্ছেমত পন্য নির্বাচন করে আপনি ওই সব পন্য প্রমোট করে টাকা আয় করতে পারবেন। এবং প্রমোটর হতে হলে  প্রথমে আপনাকে এই সকল অনলাইন সাইটে যে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এবং একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনার পছন্দমত কিছু পণ্যের রেফারেল লিংক ক্রিয়েট করে সেই লিংকটা আপনার সাইটের বিভিন্ন জায়গায় পাবলিশ করে দিতে হবে ব্যাস আপনার কাজ এইখানেই শেষ।  এরপর আপনার এফিলিয়েট লিংকে ঢুকে যদি কেউ পণ্য ক্রয় করে তাহলে আপনি ঐ সাইট থেকে কমিশন পাবেন। এভাবে আপনি যতবেশি লিংক শেয়ার করে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন তত বেশিই ইনকাম হবে। আর এই কমিশনের টাকা গুলি আপনার একাউন্টে জমা হতে থাকবে যা আপনি অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ক্যাশ করে নিতে পারবেন।

 

অ্যাডসেন্স

অ্যাডসেন্স মুলত গুগল একটি এড নেটওয়ার্ক। এডসেন্স এর আওতায় আপনি ৬৫% সিপিসি বা কস্ট পার ক্লিক পাবেন যেটার মাধ্যমে অনেক আয় করা সম্ভব যেটা সম্পুর্ণ প্যাসিভ ইনকাম। আপনারা নেট ইউজ করার সময়ে অনেক এড দেখে থাকবেন এই এয়াড যে সাইটে দেখবেন সেই  সাইটের মালিকের আয় হবে আপনিও এই ভাবে আয় করতে পারেন। এই অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের জন্য আপনার  ইউটিউব চ্যানেল বা কোন সাইট  থাকতে হবে  যার মালিক হবে শুধুমাত্র আপনিই হবেন । কারণ অন্য কারোর জিনিস অ্যাডসেন্স এপ্রুভ করে না। এরপর  অ্যাডসেন্সে এপ্রুভ করে দিলেই আপনার ঐ সকল মাধ্যমে অ্যাড শো হবে। আর যত বেশি ভিউ আসবে তত বেশিই ইনকাম হবে আপনার। এই ইনকামের টাকাও আপনার অ্যাডসেন্স একাউন্টে এড হবে৷ অ্যাডসেন্সের এর একটি নিয়ম রয়েছে তা হল ১০০ ডলার না হওয়া পর্যন্ত আপনি এই টাকা ক্যাশ করতে পারবেনা

 

তো আজ এই পর্যন্ত আশা করি বেকারত্বের কিছু উপায় মোটামুটি ক্লিয়ার একটি ধারনা দিতে পেরেছি। এর পরেও যদি কোন বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে  জানাবেনএবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্টে জানান

Leave a Comment