ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবঃ ফ্রিল্যান্সিং করার কমপ্লিট গাইড

হ্যালো জনগন। আজ আমি আপনাদের সামনে একটি দারুন টপিক্স নিয়ে হাজির হলাম। আর সেটা হল ফ্রিল্যান্সিং। যদিও এই সম্পর্কিত অনেক পোস্টই গুগলে সার্চ করলে পাবেন। কিন্তু আমার এই পোস্ট তাদের থেকে একদমই ভিন্ন।

 

কারণ আমার এই পোস্ট থেকে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর বেসিক ধারনার পাশাপাশি কিভাবে দক্ষতার সাথে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন তা হুবহু শিখতে পারবেন।

 

আমাদের দেশে দিনে দিনে প্রায় সবারই ফ্রিল্যান্সিং এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যদিও এখন আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং একটি ভাল অবস্থানে আছে। তবে খুবই অল্প সংখ্যক লোক আছে যারা উচ্চমানের কাজ পাচ্ছে এবং অনেক ইনকাম করছে। কারণ দক্ষতার অভাবে আমাদের দেশের মানুষ খুবই কম ইনকাম করে থাকে এখান থেকে। আর বেশির ভাগ মানুষই কাজ পায় না।

 

তাই আপনি কিভাবে দক্ষতার সহিত ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন সেই ট্রিক্সটা বলে দিবো। তার আগে ফ্রিল্যান্সিং এর বেসিক কিছু ধারণা নেওয়া যাক। কারণ কোন বিষয়ে বেসিক জ্ঞান না থাকলে কোন কিছুই শেখা যায় না।

 

ফ্রিল্যান্সিং কি?

প্রথম বিষয় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আপনার ক্লিয়ার ধারণা থাকতে হবে? কারণ এটা আপনাকে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হতে সহায়তা করবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং হল একটা মুক্ত পেশার কাজ। যা আপনি দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে করতে পারবেন। মনে করুন, আমেরিকার একজন লোক তার নিজের জন্য একটা ভিজিটিং কার্ড বানাবে। সে এর জন্য ১০ ডলার খরচ করবে। এখন সে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের দক্ষ লোককে দিয়ে তার এই কাজ ১০ ডলারের বিনিময়ে করিয়ে নেবে।

 

যে লোকটি তার কাজ করে দিলো সেই ব্যক্তি মূলত ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করলো। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এমন একটা কাজের মাধ্যম, যেখানে কাজ পাওয়ার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরা লাগে না। বিপুল পরিমাণে কাজ আছে এখানে। ঐ আমেরিকার লোকের মত পৃথিবীর হাজার হাজার লোক আছে যারা তাদের কাজ এই ফ্রিল্যান্সিং থেকে করিয়ে নেয়।

 

আর লক্ষ লক্ষ লোক এই ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বাসায় বসে বা পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারে।

 

ফ্রিল্যান্সিংটা কি, সেটা নিশ্চয়ই বোঝাতে পেরেছি।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর মাদ্ধমে ঘরে বসে রোজগারের এক অনন্য ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

 

কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?

ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি যে কোন ধরনের কাজ করতে পারবেন। কারণ এখানে হাজার হাজার ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আপনাকে শুধু সঠিক পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং করতে যেয়ে অধিকাংশ লোক এমন কিছু ভুল করে যা তাকে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অনেক দূরে ঠেলে দেয়।

 

১। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানুনঃ

কিছু করতে হলে কিছু জানতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে যদি আপনি কাউকে জিজ্ঞেস করেন তাহলে দেখবেন বেশির ভাগ লোকই ভুল উত্তর দিচ্ছে। এমনি কি যারা প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার, তাদের অনেকেই আছে যাদের কাছে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, তাদের পেশা কি। তাহলে তারা উত্তর দিবে যে, তারা আউটসোর্সিং করে।

 

কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং একসাথে মিলেয়ে ফেললে হবে না। কারণ দুইটাই আলদা জিনিস।

 

আউটসোর্সিং

আউটসোর্সিং বলতে বোঝায়, যখন কোন কম্পানি তাদের অফিসের বাইরের কাউকে কাজ দেয় করার জন্য তখন সেটা আউটসোর্সিং কাজ হয়। এটার মূল উদ্দেশ্য হল টাকা সেব করা।

 

সুতরাং আপনি যদি কোন কম্পানি দ্বারা তাদের কোন কাজে নিযুক্ত হন তাহলে সেটাকে আউটসোর্সিং বলে। অর্থাৎ আপনাকে কম্পানির স্বাধীনমত কাজ করতে হবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং হল স্বল্প মেয়াদী কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিজের ইচ্ছামত কাজ করা। যা আপনি নিজের সময়মত করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং হল নিজের স্বাধীনতা ভিত্তিক কাজ। আপনি কাজ না করলে কেউ আপনাকে চাপ প্রয়োগ করবে না।

 

আপনি কত ইনকাম করতে পারবেন?

আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার ইচ্ছামত ইনকাম করতে পারবেন। যা নির্ভর করবে আপনার দক্ষতা ও কাজের উপর। তবে আপনি মাসে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আর কাজ না পেলে মাস কেন, সারাবছরেও একটা ডলার ইনকাম করতে পারবেন না।

 

আমি যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলাম তখন মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করতাম। তবে কয়েক মাস এই ভাবে কাজ করার পর আমার ইনকাম মাসে ১০০০ ডলারে পৌছে। আর দিনে দিনে এই ইনকাম আমার বাড়তেই রয়েছে। ( ১ ডলার = ৮৪ টাকা। তবে ডলারের মূল্য মাঝে মাঝে কম বেশি হয় )

 

একজন বাংলাদেশী হিসাবে, মাসে এই টাকা ইনকাম মানে হিউজ পরিমাণ ইনকাম।

 

কি কি কাজ পাবেন ফ্রিল্যান্সিং এ?

প্রথমেই বলেছি যে, এখানে আপনি হিউজ পরিমাণ কাজ পাবেন। আমি নিচে কয়েক প্রকার কাজের উদাহরণ দিলাম।

 

ডিজাইনিং

১। লোগো ডিজাইন

২। গ্রাফিক্স ডিজাইন

৩। অ্যানিমেশন

৪। প্রেজেন্টেশন

৫। ইলাস্ট্রেশন

৬। ফটোগ্রাফী ইত্যাদি

 

অডিও এবং ভিডিও প্রোডাশন

 

রাইটিং

১। আর্টিক্যাল এবং ব্লগ পোস্ট রাইটিং

২। ওয়েবসাইট কনটেন্ট রাইটিং

৩। একাডেমিক রাইটিং

৪। ক্রিয়েটিভ রাইটিং

৫। কপিরাইটিং

৬। সি.ভি এবং কভার লেটার রাইটিং

৭। গ্রান্ট রাইটিং

৮। টেকনিক্যাল রাইটিং

৯। বিজনেস প্লান রাইটিং

 

অ্যাডমিন জবস

১। ডাটা এট্রি

২। ভারচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স

৩। ওয়েব রিসার্চ

৪। ট্রান্সক্রিপশন

৫। প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

 

  • ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়ার (মোবাইল ও কম্পিউটার) ডেভেলপমেন্ট
  • আইটি এবং নেটওয়ার্কিং
  • ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার
  • ডাটা সাইন্স এবং এনালাইটিক্স
  • কাস্টমার সার্ভিস
  • ট্রান্সলেশন
  • কনসালটেশন এবং অ্যাকাউন্টিং
  • সেলস এবং মার্কেটিং ইত্যাদি।

 

উপরে আমি জনপ্রিয় কিছু কাজের উদাহরণ দিলাম। এই সকল কাজ থেকে আপনি হিউজ ইনকাম করতে পারবেন। শুধু আপনাকে এখান থেকে আপনার দক্ষতা অনুয়াযী কাজ বেছে নিতে হবে এবং সেটা প্রপারলি ভাবে করতে হবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজসমূহ সম্পর্কে জানতে এই পোস্টটি পড়ুন 

 

বাংলাদেশের কিছু জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজঃ

বাংলাদেশের জন্য সব ধরনের কাজ উপযোগী নয়। নির্দিষ্ট কিছু জনপ্রিয় কাজ আছে যেগুলো আপনি ভাল ভাবে করতে পারবেন।

 

নিচে আমি সেই ধরনের কিছু কাজের উদাহরণ দিলাম।

  • গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসিও)
  • অনলাইন ডাটা এট্রি
  • ওয়েব ডিজাইনিং

 

এমন একটা সময় ছিল যখন অনলাইন ডাটা এট্রি খুবই জনপ্রিয় ছিল। প্রচুর পরিমাণে কাজ করা হত এই ডাটা এট্রিতে। কিন্তু এই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কমে যাওয়ায় এবং এই কাজের জন্য লোক বেড়ে যাওয়ায় কাজটা আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। যার ফলে এখন অধিকাংশ লোক গ্রাফিক্স ডিজাইনিং বা কনটেন্ট রাইটিং এই ধরনের কাজ প্রফেশনাল হিসাবে নিচ্ছে।

 

অনেকে এসিও এর পাশাপাশি ওয়েব ডেভেলপমেন্টেরও কাজ করছে। এখন বাংলাদেশে এসিও এর কাজের অনেক বেশি ডিমান্ড। ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগ-ইন ডেভেলপমেন্টও বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় কাজ। অনেকেই এই কাজের সাথে জড়িত।

 

আপনার পছন্দমত সাইট বেছে নিন।

 

এটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে অন্যতম। কারণ আপনাকে কিছু একটা দিক বেছে নিতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং এ অনেক অপশন আছে। এর মধ্যে আপনাকে নিখুত একটা অপশন খুঁজে নিতে হবে।

 

আপনাকে সব সময় আপনার কাজের প্রতি মনযোগী হতে হবে। কারণ আপনি ভাল কাজের দক্ষতা না দেখাতে পারলে এই প্লাটফর্মে থেকে কিছুই পাবেন না। যে কাজ আপনাকে আকর্ষণ করবে, অর্থাৎ যে কাজ করতে আপনার মজা লাগে সেই ধরনের কাজ করতে হবে আপনাকে। কারণ মনে রাখতে হবে যে, আপনার চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতা সম্পন্ন লোক এখানে আছে। তাদের সাথে কম্পিটিশন করে কাজ পেতে হবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে গেলে কিছু বিষয়ে আপনার নজর রাখতে হবে নিখুত ভাবে।

  • আপনার প্রোফাইল খুবই আকর্ষনীয় করে তৈরি করতে হবে। যাতে আপনার প্রোফাইল কোন ক্রায়েন্ট দেখলে আগ্রহী হবে আপনাকে কাজ দিতে। আপনার প্রোফাইলে প্রোফাইল পিকচার হিসাবে নিজের খুব সুন্দর একটি ছবি উপলোড করুন। আপনি কোন কাজে কেমন পারদর্শী সেগুলো ভাল করে উল্লেখ করে রাখুন।

 

তাছাড়া আপনি আপনার কাজের প্রতি কেমন সিরিয়াস এবং কেমন সার্ভিস দিতে পারবেন সেগুলো প্রোফাইলে উল্লেখ করে রাখুন। এতে করে আপনার প্রোফাইল কোন ক্লায়েন্ট দেখলে আপনাকে কাজ দিতে আগ্রহী হবে।

  • কোন কাজ অর্ডার করার জন্য নিজে থেকে একটি সুন্দর আর্টিকেল লিখুন। কপি পেস্ট করে কোন লেখা আপনি ইউজ করলে সেটা ক্লায়েন্ট সনাক্ত করতে পারে। তাই ইউনিক কিছু করুন।
  • ফ্রিল্যান্সিং এর মেইন একটি পার্ট হল, আপনাকে ইংলিশে অনেক দক্ষ থাকতে হবে। কারণ অধিকাংশ কাজই আপনাকে বাইরের দেশের লোক দেবে। আর তাদের সাথে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম হল ইংলিশ। তাই আপনাকে ইংলিশে কথা বলার জন্য পারদর্শী হতে হবে।

 

আপনি যদি ভাল ভাবে না পেরে আধো আধো ইংলিশে কথা বলতে পারেন, তাহলে আপনি আপনার ক্লায়েন্টের কাজ ঠিক মত বুঝতে পারবেন না। এতে করে ক্লায়েন্ট আপনার প্রতি অখুশি হবে। তাই বেশি বেশি ইংলিশ প্রাকটিস করুন।

 

এখন আপনি কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন বা কাজ শিখবেন?

 

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য বেশির ভাগ লোকজনই কোন একটা প্রতিষ্ঠানের কাছে ছুটে যায়। যে সকল প্রতিষ্ঠান বিপুল টাকার বিনিময়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখায়। তবে আমি আপনাদের এই সকল প্রতিষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করবো। কারণ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনাররা ঠিকমত না জেনেই অন্যদের কাজ শেখানো শুরু করে দেয়।

 

কারণ একজন সফল ফ্রিল্যান্সার যদি অনলাইনে কাজ করে তাহলে সে হিউজ পরিমাণে ইনকাম করে। যার জন্য তার অন্য কোন কাজ করার সময়ই থাকে না। একটা কথা মাথায় রাখেন, ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে কেউ সফল হলে সেখান থেকে ফিরতে পারে না। কারণ এই প্লাটফর্মে আপনি যদি ইনঅ্যাকটিভ থাকেন তাহলে আর কোন কাজই আপনি পাবেন না।

 

নিশ্চয়ই বুঝতে পেরছেন। কারণ যে সকল ট্রেইনার প্রতিষ্ঠান খুলে খুলে ট্রেনিং দেয়, তারা তাদের কাজের জন্য একটুও সময় দিতে পারে না। মূলত এই সকল প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনার বা মালিকেরা ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের অভাবে ইনকাম না করতে পেরে শেষে বেসিক কিছু ধারণা নিয়েই প্রতিষ্ঠান খুলে বসে ইনকামের ধান্ধায়।

 

আমি আপনাদের একদম ফ্রি ভাবেই শিখাবো কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।

 

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আপনার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস থাকা লাগবে।

 

একটি ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ। কাজের ধরন অনুযায়ী কনফিগার সিলেক্ট করে এগুলো কিনতে হবে। এই যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজের জন্য হাই কনফিগারের ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কিনতে হবে।

 

আপনার নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।

 

ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলার জন্য আপনার একটি হেডফোন থাকলে সুবিধা হবে।

 

প্রয়োজনীয় সফটওয়ার লাগবে কাজের জন্য।

 

আপাতত এই গুলো নিয়ে আপনি কাজ শুরু করতে পারবেন।

 

ফ্রিল্যান্সিং এ যে সকল কাজ অবশ্যই করতে হবে এবং যে কাজ গুলো অবশ্যই ত্যাগ করতে হবেঃ

 

যা করতে হবেঃ

সবার প্রথমে আপনার শেখার উপরে নজর রাখতে হবে।

পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সবকিছু জানতে হবে।

খুবই আকর্ষণীয় একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে।

সুন্দর করে প্রোপোজাল লিখতে হবে।

 

যে কাজ ত্যাগ করতে হবেঃ

কাজ শেখার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানে যাওয়া যাবে না।

নিজে ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করা যাবে না।

একই ফ্রিল্যান্সিং সাইটে একাধিক অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করা যাবে না।

আপনার পিসি থেকে অন্য কারোর ফ্রিল্যান্সিং অ্যাকাউন্ট লগ ইন করবেন না বা অন্যের পিসিতে আপনার অ্যাকাউন্ট লগ ইন করবেন না।

 

এছাড়া আপনাকে আরো ৩ টা জিনিসের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

১। সময়

২। টাকা

৩। প্লেস

 

সময়ঃ

সময়ের বিষয়ে আপনাকে অনেক বেশি সেনসিটিভ হতে হবে। কারণ কাজ করার জন্য আপনাকে উপযুক্ত সময় বেছে নিতে হবে। উপযুক্ত সময় ছাড়া আপনি কাজ করলে কাজের মান ভাল হবে না। কারণ প্রতিটা কাজের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ না করলে কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

 

টাকাঃ

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যাওয়া মানুষ সব চেয়ে বেশি যে ভুলটা করে সেটা হল টাকা। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এমন কোন মাধ্যম না যে মাসে মাসে টাকা আসবে। এখানে আপনি কাজের উপর ডিপেন্ট করে টাকা পাবেন। কাজ না করলে একটি টাকাও পাবেন না। অনেকে কাজ না পেয়ে মাস শেষে যখন টাকা ইনকাম করতে পারে না , তখন তারা নিরাশ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং বাদ দিয়ে দেয়।

 

তাই সব সময় মনে রাখবেন, এখানে টাকা ইনকাম করতে হলে অনেক পরিশ্রমের পাশাপাশি ধৈর্য থাকতে হবে। তাহলে এক সময় না এক সময় আপনি সফল হবেনই।

 

প্লেসঃ

কাজের জন্য আপনাকে উপযুক্ত প্লেস নির্বাচন করতে হবে। আপনি যে সকল কাজ পারবেন না সে সকল কাজ কখনোই অর্ডার নিবেন না। এতে করে ক্লায়েন্টদের সাথে ঝামেলা হতে পারে। ফলে তারা আপনার প্রোফাইলে নেগেটিভ রিভিউ দিতে পারে। যা আপনাকে অন্য কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে রাখবে। তাই নিজে যে কাজে পারদর্শী সেই কাজই আপনি করবেন।

 

আশা করি ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে সব কিছুই বোঝাতে পেরেছি। তারপরেও যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট সেকশনে লিখতে পারেন। আমরা সব সময়ই আপনার পাশে থাকবো।

 

ধন্যবাদ

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্টে জানান

1 thought on “ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবঃ ফ্রিল্যান্সিং করার কমপ্লিট গাইড”

  1. ভাই আপনি অনেক সুন্দর এবং আমার পড়া আরটিকেলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বুঝিয়ে এবং সঠিক কথা লিখেছেন। আমি সহজে কাউকে কমেন্ট করি না কিন্তু আপনাকে না করে পারলাম না। আপনার জন্য দোয়া রইলো।

Leave a Comment