টিউশনি পাওয়ার উপায়: কিভাবে টিউশনি পাওয়া যায় তার গাইড

পড়াশুনা চলাকালীন প্রায় বেশির ভাগ স্টুডেন্টদের জীবনের প্রথম আয়ের উৎস হয় টিউশনি। এমন কোন স্টুডেন্ট প্রায় খুঁজেই পাওয়া যাবে না যে জীবনে কখনো টিউশনি করায়নি। আর যারা টিউশনি করে, তাদের পড়াশুনার পাশাপাশি আরেকটি উপকার হয়।

 

আর সেটা হল ব্রেনকে ধার দেওয়া। অর্থাৎ টিউশনি করলে টাকা ইনকামের পাশাপাশি নিজের ব্রেনে পুরানো অর্জিত জ্ঞান ভান্ডারকে পুনরায় ঝালাই করে দেওয়া যায়। ফলে পড়াশুনা শেষে চাকুরীর জন্য যখন এপ্লাই করা হয়, তখন তেমন পড়াশুনা করতে হয় না।

 

কারণ চাকুরীর পরীক্ষায় নবম-দশম শ্রেণী ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর প্রশ্নই বেশি আসে। আর এখন টিউশনির ডিমান্ডও অনেক বেশি। আমাদের সময় আমরা যখন কাউকে পড়াতে যেতাম তখন সর্বোচ্চ হাজার খানেক টাকা দিলেই খুশি হতাম। কিন্তু এখন ৩য় শ্রেণীর একটা স্টুডেন্ট পড়ালেই মিনিমাম ৩০০০ টাকা পাওয়া যায়।

 

আমাদের বাসার পাশে অনেকেই আছেন যারা টিউশনি করিয়ে এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন যে তারা এখন নিজেরাই একটা একাডেমিক কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। আর তারা এই টিউশনিকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন। একটা স্টুডেন্টকে বাসায় যেয়ে পড়ালে যদি মাসে ৩০০০ টাকা পাওয়া যায়, তাহলে ৫ জনকে পড়ালে ১৫০০০ টাকা আসে মাসে।

 

এই রকম অনেকই আমার পরিচিত আছে যারা টিউশনি করে করে শহরে জমি কিনে বাড়ি বানাচ্ছে।

 

গ্রাম থেকে অনেকেই শহরে যায় পড়াশুনার জন্য। ফলে সেখানে কিছু আয় করতে পারলে বাড়ি থেকে তেমন টাকা নেওয়া লাগে না। আবার অনেকের ফ্যামিলির অবস্থা একটু খারাপ থাকে। তাই টিউশনি পেলে নিজের খরচের পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও একটু সহায়তা করা যায়।

 

তবে সমস্যা হচ্ছে টিউশনি পাবো কিভাবে? টিউশনি পাওয়াটা তো এত সোজা না কারণ শহরে কেউই আপনাকে চেনে না। আপনার কোয়ালিফিকেশন কি সেটাও কেউ জানে না। তাই টিউশনি পাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে।

 

কিন্তু আমি বলবো যে আপনি চাইলে টিউশনি পাবেন কারণ চেষ্টায় সব হয়। তবে আপনাকে কিছু কৌশল সঠিকভাবে অবলম্বন করতে হবে। কারণ অতি দ্রুত টিউশনি পাওয়ার জন্য কৌশলে কাজ না করলে হবে না। শহরে নতুন হওয়ায় আপনার কোয়ালিফিকেশন সবারই অজানার কারণে কেউই আপনাকে হোম টিচার হিসাবে নিয়োগ দেবে না এটাই স্বাভাবিক।

 

আসুন আমি আপনাকে কিছু উপায় বলে দেই। যেগুলো আপনি বাস্তবভাবে প্রয়োগ করতে পারলে অবশ্যই টিউশনি পাবেন। তবে তার আগে আমি একটা কথা বলতে চাই, আপনি যদি ভাল পড়াতে না পারেন এবং আপনার স্টুডেন্টদের সাথে ভাল ব্যবহার না করতে পারেন তাহলে আপনার এই পেশায় না আসাই ভাল কারণ আপনার স্টুডেন্টদের ইম্প্রুভ যদি আপনি করাতে না পারেন তাহলে সেই স্টুডেন্ট আপনার কাছে বেশি দিন পড়তে চাইবে না।

 

তাছাড়া ঐ সকল স্টুডেন্টদের গার্ডিয়ানরাও আপনার কাছে তাদের ছেলে-মেয়ে পড়তে দিতে চাইবে না। ফলে কিছু টিউশনি পেলেও অচিরেই তা হাত ছাড়া হতেও সময় লাগবে না।

 

আর তখন টিউশনি চাই টিউশনি চাই বলে চেঁচিয়েও কোন লাভ হবে না। যাই হোক অনেক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম বোধ হয়, তাই এখন আসি কাজের কথায়।

 

টিউশনি পাওয়ার কৌশল

এখন আমি আপনাদেরকে দেখাব টিউশনি পাবার উপায়গুলো।

 

উপায় ১

আপনি যেখানে থাকেন সেখানে আপনার অনেক বড় ভাই বা বন্ধু-বান্ধব আছে, অথবা আপনার নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অনেক বড় ভাই বা বন্ধু-বান্ধব আছে যারা টিউশনি করে। আপনি তাদের সহায়তা নিতে পারেন কারণ তারা যেহেতু আগে থেকেই টিউশনি করাচ্ছে সেহেতু তাদের কাছে অনেক টিউশনির অফার আসে এবং আসা করা যায় যে এ বিষয়ে তাদের নেটওয়ার্কও ভাল। আপনি চাইলে তাদের জানিয়ে রাখতে পারেন। তারা আপনার জন্য কোন না কোন ব্যবস্থা করে দিতে পারে।

 

একটা বাসায় পড়ালে ঐ এলাকায় যাওয়া আসা করতে করতে একটু পরিচিতি লাভ করা যায়। ফলে অনেক গার্ডিয়ানই আসে তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ানোর অফার নিয়ে। তাই আপনার বন্ধু-বান্ধব যারা আছে এরা চাইলেই ঐ অফার গুলো আপনাকে দিতে পারে কারন একজনের পক্ষে অসংখ্য স্টুডেন্ট পড়ানো সম্ভব নয়। তবে এর জন্য আপনাকে বড় ভাইদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ভাল ব্যবহার করতে হবে এবং আপনার বন্ধু বান্ধবদের সাথেও ভাল যোগাযোগ রাখতে হবে।

 

আর এদেরকে আপনার পড়ানোর দক্ষতার ও প্রমাণ দিতে হবে কারন তারা যেন আপনার ওপর আস্থা রাখতে পারে।

 

উপায় ২

আপনি যদি বড় ভাই বা বন্ধু-বান্ধবদের সহায়তা না পান তাহলে আপনি নিজেই একটা কাজ করতে পারেন টিউশনি পাওয়ার জন্য। আর সেটা হল আপনার নিজের টিউশনি পাওয়ার জন্য একটা বিজ্ঞাপন প্রচার করা। যে বিজ্ঞাপন বোঝাবে যে আপনি টিউশনি করাতে চান। এটা আপনাকে অনেক উপকার করবে। এই যুগে এখন অনেকেই এই পথে টিউশনি পাচ্ছে। আর দিনে দিনে এই কৌশল খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

 

এখন কথা হল আপনি কিভাবে বিজ্ঞাপন বানাবেন আর বিজ্ঞপনে কি ই বা লিখবেন?

 

আপনি নিশ্চয়ই টেলিভিশনে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখেছেন! বিজ্ঞাপনগুলাতে কিন্তু ঐ প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ভাল  দিকগুলো এবং সুযোগ-সুবিধা গুলো উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ঠিক এমনিভাবেই আপনি আপনার কোয়ালিফিকেশনসহ আপনি কোন কোন শ্রেণীর স্টুডেন্ট পড়াতে চান এবং আপনার সাথে যোগাযোগের জন্য একটা বা দুইটা সচল মোবাইল নাম্বার দিয়ে বিজ্ঞাপন বানাতে পারেন।

 

এখন আসি বিজ্ঞাপন বানানোর খরচের দিকে। আপনার বিজ্ঞাপনের ধরণের ওপর এর খরচ নির্ভর করছে। হ্যা, আপনি লিফলেট, পোস্টার, বা ফেস্টুনের সাহায্যে আপনার বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন। 

 

এখন প্রথমেই আপনাকে নির্ধারণ করে নিতে হবে যে আপনি কোন ধরণের বিজ্ঞাপন মাধ্যম ব্যবহার করবেন?

 

সবথেকে কম খরচে যেটা সম্ভব সেটি হল কাগজে আপনার টিউশনির বিজ্ঞাপন প্রিন্ট করে তার কিছু ফটোকপি করা।

 

আপনার বাসায় যদি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকে তবে আপনি নিজেই বাসায় বসে একটি বিজ্ঞাপন বানাতে পারেন। মাইক্রোসফট অফিস সফটওয়ারে নিজের পছন্দমত ফরম্যাট ক্রিয়েট করে বিজ্ঞাপন বানাতে পারেন। আর আপনার বাসায় যদি প্রিন্টার থাকে তাহলে তো কথাই নেই। আপনার একটা টাকাও খরচ হবে না বিজ্ঞাপন বানানোর জন্য।

 

বাসায় গিয়ে পড়াতে চাই” এই টাইটেলে একটি বিজ্ঞাপন বানাবেন। টাইটেলের নিচে আপনার কোয়ালিফিকেশন ও আপনি কোন শ্রেণী এবং কোন গ্রুপ বা সাবজেক্ট গুলো পড়াতে চান সেগুলো উল্লেখ করে দিবেন। সবশেষে নিজের সচল কোন মোবাইল নাম্বার দিবেন। সচল মোবাইল নাম্বার না দিলে কিন্তু পড়তে ইচ্ছুক স্টুডেন্ট বা তাদের গার্ডিয়ানরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না।

 

এবার বিজ্ঞাপনটি কাগজে প্রিন্ট করার পালা। একটি এফোর সাইজের পেপারে বিজ্ঞাপনটি প্রিন্ট করুন ও এরপর তা কোন ফটোকপির দোকান থেকে অনেকগুলো কপি করে নিন।

 

এরপর ওই বিজ্ঞাপনের পেপারগুলো আঠার সাহায্যে আপনার আসেপাশের এলাকার বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিন।

 

আপনার বাসায় যদি প্রিন্টার না থাকে। শুধু কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকে, তাহলে আপনি শুধু বিজ্ঞাপনটা নিজের কম্পিউটার বা ল্যাপটপে বানিয়ে কোন একটা কম্পিউটারের দোকানে চলে যাবেন সেটা প্রিন্টের জন্য। একটা কপি প্রিন্ট করতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বা ২০ টাকা নিবে। এরপর আপনি ঐ কপিটার ফটোকপি করে আনবেন অনেকগুলা। এক একটা ফটোকপির জন্য সর্বোচ্চ দেড় টাকা থেকে আড়াই টাকা খরচ পড়বে।

 

আর আপনার যদি নিজের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকে তাহলে আপনি কোন একটা কম্পিউটারের দোকানে যেয়ে আপনার বিজ্ঞাপন বানাতে পারেন। তারা আপনার কাছ থেকে একটা বিজ্ঞাপন বানানোর জন্য সর্বোচ্চ ৫০ টাকা বা তার কম নেবে। এরপর সেগুলো আপনি কিছু সংখ্যক ফটোকপি করে নিয়ে আসতে পারেন।

 

আর একান্তই যদি আপনি উপরের কোনটাই করতে না পারেন তাহলে নিজেই কয়েকটি কালারফুল অপসেট পেপার কিনে সেটাতে আপনার বিজ্ঞাপন মার্কার দিয়ে ভাল করে ডিজাইন করে লিখে তা বিভিন্ন দেওয়ালে লাগাতে পারেন। এর থেকে সহজ আর কোন মাধ্যম আমার জানা নেই।

 

আপনি যদি এভাবে আপনার এলাকায় এই বিজ্ঞাপন টাঙাতে পারেন তাহলে কিছুদিনের মধ্যে অবশ্যই কোন না কোন রেস্পন্স পাবেন। আমার অনেক বন্ধু আছে যারা কলেজ লাইফে এভাবেই টিউশনি খুঁজে নিত।

 

আপনি যদি আরো একটু বেশি খরচ করতে পারেন, তবে আমি আপনাকে প্রেসে যেয়ে হাজারখানেক লিফলেট ছাপানোর বুদ্ধি দেব। হ্যা, আপনি কিছু আকর্ষণীয় লেখা লিফলেট আকারে ছাপিয়ে নিন।

 

এবার আপনার এলাকার যে হকার আছে তার সাথে যোগাযোগ করুন এজন্য যে তিনি যেন আপনার লিফলেটগুলো পেপারের মধ্যে করে বিলি করে দেয়। তাকে তার নির্দিষ্ট ফি দিয়ে দিন। আপনি যদি পারেন তবে সকালে নিজে থেকে তার পেপারে লিফলেটগুলো ভরে দিন যাতে নিশ্চয়তা পাওয়া যায় যে সে সঠিকভাবে লিফলেটগুলো বিলি করছে।

 

এটি খুবই ইফেক্টিভ এবং আমি আমার জীবনের প্রথম টিউশনিটি এভাবে পেয়েছিলাম।

 

পারলে এই লিফলেটগুলি আপনার নিকটস্থ স্কুল, কলেজেও বিলি করতে পারেন।

 

খরচ যদি আরো বাড়াতে পারেন তবে আমি আপনাকে পোস্টার ছাপানোর পরামর্শ দেব। কোন প্রেসে যেয়ে ১৮*২০ বা ২৩*৩৬ এরকম সাইজের পোস্টার অর্ডার করুন ও তা আপনার এলাকায় লাগিয়ে দিন। এতে অনেক বেশি নজর কাড়বে ফলে টিউশনি পাওয়াও অনেক বেশি সহজ হবে।

 

উপায় ৩

আপনি যদি উপরের কোন উপায়ে টিউশনি না পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি এখন যে উপায় আপনাকে বলবো সেটা অবলম্বন করতে পারেন। আর সেটা হল অনলাইন পদ্ধতি।

 

এখন অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট আছে, যাদের কাজ হল হোম টিচার দেওয়া এবং নেওয়া। এই সকল ওয়েবসাইট হল টিউশনি যারা করে তাদের জন্য এবং যে সকল গার্ডিয়ান তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াতে চায় তাদের জন্য।

 

এই সকল ওয়েবসাইটে আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী দেশের যে কোন স্থানের জন্য টিউশনি পাবেন। আর ছেলে-মেয়েদের গার্ডিয়ানরাও নিজেদের পছন্দমত টিচার খুঁজে নিতে পারে।

 

আপনি দুটি উপায় এই সকল ওয়েবসাইটে টিউশনি পেতে পারেন। একটি হল, পেইড মেম্বার হয়ে, আর অন্যটি হল ফ্রি মেম্বার হয়ে। পেইড মেম্বারের জন্য কিছু টাকা পে করতে হয়। আর ফ্রি মেম্বারদের কোন টাকা পে করতে হয় না।

 

একটু বুঝিয়ে বলি। যে ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলবেন সেই ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনকে কিছু টাকা পে করলে আপনি পেইড মেম্বার হয়ে যাবেন। আর আপনি যদি অ্যাডমিনকে কোন টাকা পে না করেন তাহলে আপনি ফ্রি মেম্বার হয়ে থাকবেন।

 

পেইড মেম্বার ও ফ্রি মেম্বারের পার্থক্যটা বলি এখন।

 

পেইড মেম্বার যারা এনাদের জন্য অ্যাডমিন নিজে থেকেই কিছু টিউশনি ঠিক করে রাখে। শুধু তাই নয়, পেইড মেম্বারদের জন্য ভাল ভাল টিউশনি অ্যাডমিন জোগাড় করে এনে দেয়। এটাই হল পেইড মেম্বার হওয়ার উপকারিতা।

 

আর ফ্রি মেম্বাররা কোন টাকা পে করে না বলে নিজেদেরই ওয়েবসাইট থেকে টিউশনি খুঁজে নিতে হয়। এতে করে সময় একটু বেশি লাগে টিউশনি পাওয়ার জন্য। কিন্তু পেইড আর ফ্রি মেম্বারদের মধ্যে আর কোন পার্থক্য নেই। ফলে ফ্রি হোক আর পেইড হোক সবাই টিউশনি পেয়ে যায়।

 

এখন কথা হল, কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে টিউশনি পাব?

 

আপনি যে সকল ওয়েবসাইট থেকে টিউশনি পেতে চান সেই সকল ওয়েবসাইটে প্রথমে যেতে হবে। তারপর আপনাকে প্রথমে ঐ সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগে আপনাকে সিলেক্ট করে নিতে হবে যে, আপনি টিউশনি পাওয়ার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলছেন নাকি গার্ডিয়ান হিসাবে অ্যাকাউন্ট খুলছেন।

 

আপনি তো টিউশনি পাওয়ার জন্যই অ্যাকাউন্ট খুলছেন। তাই সেই অপশনটা সিলেক্ট করলে একটা ফর্ম আসবে। আর সেখানে আপনার বিষয়ে কিছু ইনফরমেশন চাইবে। এই যেমন- আপনার নাম, আপনার একটি ছবি, আপনার ঠিকানা, আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আপনি কোন শ্রেণীর স্টুডেন্ট পড়াতে চান বা কোন গ্রুপের স্টুডেন্ট পড়াতে চান, কোন কোন সাবজেক্ট পড়াতে চান, আপনার মোবাইল নাম্বার, আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি।

 

নিজের অরিজিনাল নাম, আপনার ছবি, আপনার পড়াশুনার যোগ্যতা সহ আপনি কোন গ্রুপ বা সাবজেক্টের স্টুডেন্ট পড়াতে চান আর যোগাযোগের ডিটেইলস দিয়ে ফর্মটা ফিল আপ করে সাবমিট করে দিন। সাবমিট করার পর অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা ইমেইল বা ফোন নাম্বারের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করে। যদি আপনার ফোন নাম্বার ভেরিফিকেশনের অপশন আসে তাহলে আপনার ঐ ফর্মে দেওয়া আপনার নাম্বারে একটা এসএমএস আসবে। আর ঐ এসএমএস এ একটা পিন নাম্বার আসবে। সেই পিন নাম্বার ওয়েবসাইটের যেখানে চাইবে সেখানে দিলেই আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে।

 

অন্যদিকে যদি ইমেইল ভেরিফিকেশন আসে তাহলে ওয়েবসাইট থেকে একটা ভেরিফিকেশনের লিংকসহ একটি ইমেইল যাবে ফর্মে দেওয়া ইমেইলে। তখন আপনার ইমেইল চেক করে দেখানে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলেই আপনার অ্যাকাউন্টটা ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে। অনেক সময় ইমেইলে পিন নাম্বারও আসে। যাই আসুক না কেন আপনি তাদের দেওয়া ইন্সট্রাকশনে কাজ করে যাবেন। ব্যস আপনার একটা অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট হয়ে যাবে।

 

এখন আপনার অ্যাকাউন্ট ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞপন হিসাবে দেখাবে। যারা গার্ডিয়ান আছে, তারা আপনার অ্যাকাউন্ট চেক করবে। আর আপনার কোয়ালিফিকেশন যদি ভাল লাগে তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করবে।

 

এছাড়া আপনি নিজেও এই সকল সাইট থেকে টিউশনি খুঁজে নিতে পারেন। কারণ অনেক গার্ডিয়ান পাবেন এখানে, যারা গার্ডিয়ান হিসাবে অ্যাকাউন্ট খুলে রেখেছেন। গার্ডিয়ানরা তাদের ছেলে-মেয়েদের ডিটেইলস দিয়ে রাখে। এই যেমন, তার ছেলে বা মেয়ে কোন শ্রেণীতে পড়ে, কোন গ্রুপে পড়ে, কোন স্কুলে পড়ে, কোন সাবজেক্ট পড়াতে চায়, বসবাসের ঠিকানা, যোগাযোগের ঠিকানা ইত্যাদি।

 

আপনি এই সকল গার্ডিয়ানদের বিজ্ঞাপন গুলো দেখে দেখে পছন্দমত আপনার কিছু গার্ডিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তারপর তাদের সাথে কথা বলে আপনি তাদের দেওয়া ঠিকানায় যেয়েও ফেস টু ফেস কথা বলতে পারেন। কথা যদি পাকা হয় তাহলে আপনাদের ফিক্সড করা তারিখ থেকে পড়ানো শুরু করে দিতে পারবেন।

 

এই রকম অনেক ভাবেই আপনি টিউশনি পেতে পারেন। তবে আপনাকে চেষ্টা করতে হবে এবং আপনাকে অ্যাকটিভ থাকতে হবে। কারণ আপনি যাই করুন না কেন, সেই কাজে অ্যাকটিভ না থাকলে আপনি কোন কাজেই সফল হবেন না।

 

যেমন আপনি যদি নিজের লেখা বিজ্ঞাপনে আপনার সাথে যোগাযোগের জন্য এমন কোন মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করলেন, যে নাম্বার আপনার প্রায়ই বন্ধ থাকে। এতে করে গার্ডিয়ানরা আপনাকে খুঁজে পাবে না।

 

অন্যদিকে আপনি কোন ওয়েবসাইটে যদি ভুল নাম্বার বা বন্ধ থাকা নাম্বার দেন তাহলেও একই সমস্যা হবে। তাই অ্যাকটিভ থাকুন, অবশ্যই আপনি কিছু করতে পারবেন। কারণ কথায় আছে, কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।

 

উপায় ৪

ফেসবুকতো ব্যবহার করেন তাই না? এবার এটিকে একটু ইনকামের জন্য ব্যবহার করুন। হ্যা, বেশি বেশি কানেকশন বাড়ানোর চেস্টা করুন ও আপনার ওয়ালে নিয়মিত পড়াতে চাই এরকম পোস্ট দিতে থাকুন। আশা করা যায় অনেকেই আপনার ডাকে সাড়া দেবে।

 

আর আপনি চাইলে ফেসবুকে বুস্ট করে বিপুল সংখ্যাক মানুষকে আপনার টিউশনির সার্ভিস সম্পর্কে জানাতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে একটু খরচ করতে হবে আরকি।

 

উপায় ৫

এবার আমি একটি অভিনব উপায় সম্পর্কে বলবো যা হয়তো আপনার মনে ধরবে। উপায়টি হল আপনার নামে একটি ওয়েবসাইট খুলে তাতে আপনার পড়ানোর সার্ভিসসহ ডিটেইলস দিয়ে দেওয়া।

 

এই ওয়েবসাইটটি আপনার লাইভ সিভি হিসেবে কাজে দেবে যা পরবর্তীতে চাকুরীর সময়েও কাজে লাগবে। তাছাড়া একটি ওয়েবসাইট থেকে নানাভাবে আয় ও করা যায়।

 

সবশেষে আমি আপনাকে সাবধান করে দিতে চাই প্ত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া কিছু টিউশন মিডিয়া সম্পর্কে যারা একটি নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে টিউশনি দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরা আসলে নানাভাবে প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

 

আরো পড়ুন!

কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায়?

ডোমেইন কিভাবে কিনবেন তার এ টু জেড গাইড!

রেস্টুরেন্টের লাভ বাড়াতে যা যা করবেন!

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্টে জানান

Leave a Comment