টাকা আয়ের সহজ উপায়

আসসালামুআলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন সবাই? আশা করি মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।

আজকের শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারছেন আমরা আজকে কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। জি প্রিয় ভাই ও বোনেরা আজকে আমি আপনাদের সাথে টাকা আয়ের কিছু উপায় শেয়ার করবো তো পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন আশা করি

অনলাইন এর মাধ্যমে টাকা আয় করার অনেক উপায় রয়েছে যা হয়তো অনেকে জানেন না। বর্তমান সময়ে অনলাইন এর উপর ভিত্তি করে অনেক ধরনের কাজ রয়েছে যে কাজ গুলি আপনি ঘরে বসে করতে পারবেন এবং অন্যান্য অফিসে চাকুরী করলে আপনাকে যে সময় দিতে হতো  সে তুলনায় এই কাজগুলোতে অনেক কম সময় দিলেই ভাল টাকা উপার্জন করা সম্ভব। অনলাইনে ইনকামের কয়েকটি উপায় তুলে ধরছি

 

টাকা ইনকামের কৌশল

ফেসবুক

প্রথমে যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো সেটি হল ফেসবুক। অনেকে হয়তো শুনে হয়তো ভাবছেন কিভাবে ফেসবুক থেকে কি  ইনকাম করা যায়? আমি আপনাদেরকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলছি। আপনারা হয়তো সবাই ফেসবুকে ভিডিও দেখেন আপনারা লক্ষ্য করেছেন ফেসবুকে ভিডিও দেখার সময় অনেক এড সো করেন এই এডের মাধ্যমেই আয় করা সম্ভব। এই ইনকাম করার মাধ্যম নতুন চালু করেছে আগে এই মাধ্যম ছিলো না। এখন ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে যা করতে হবে তা হল সর্বপ্রথম আপনাকে একটি পেজ ক্রিয়েট করতে হবে এরপর আপনার পেজে মিনিমাম ১০ হাজার লাইক থাকতে হবে এবং লাস্ট ৩ টি ভিডিওতে ৩ হাজার ওয়ান মিনিট ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে। তো বুঝতেই পারছেন এরজন্য আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে তারপর যখন আপনার পেজে ১০ হাজার লাইক এবং লাস্ট ৩ টি ভিডিওতে ৩ হাজার ওয়ান মিনিট ওয়াচ ভিউ হলেই আপনি মানিটাইজিন এর এপ্লাই করতে পারবেন এবং এপ্রুভ হলেই আপনার পেজ থেকে টাকা আসা শুরু হয়ে যাবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানেন না এমন লোক খুবই কম আছেন। এখন আস্তে আস্তে মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে ঝুঁকছে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে মানুষ নিজের মত কাজ করতে পারে বলে মানুষ আরো বেশি আকৃস্ট হচ্ছে। অনেকে না যেনে এটিকে কঠিন বলেন আসলে আপনারা যতটা কঠিন ভাবেন কাজটা অতটাও কঠিন না।

 

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অনলাইনে অনেক গুলি সাইট রয়েছে। এই সমস্ত সাইটে আপনাকে নিজের রিয়েল ইনফরমেশন দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপর নিজের মত কাজ খুজে নিতে হবে। এই যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, অ্যানিমেশন ক্রিয়েটিং, ভিডিও মেকিং, গেম মেকিং, অ্যাপস বিল্ডিং ইত্যাদি।

 

আপনাকে কাজ পেতে হলে আগে আপনাকে এই সকল কাজের জন্য পারদর্শী হতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনিই কাজটা ভাল পাবেন। তাহলেই কাজ পাবেন।

 

যেখানে অনেক কাজ থাকে যেগুলি করলে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন এবং যখন আপনার কাজের মান অনেক ভালো হতে থাকবে তখন বায়াররা আপনাদের হায়ার করবে কাজ করার জন্য যার মাধ্যমে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এবং এই সকল টাকা আপনার একাউন্টে জমা হবে যা আমি অনলাইন বেসড যেকোনো ব্যাংক থেকে ক্যাশ করতে পারবেন।

 

ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

ওয়েবসাইট ফ্লিপিং বেশ জনপ্রিয় একটি  আয়ের মাধ্যম। কিন্তু এটি থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে অনেক ভালো এবং এক্সপার্ট ওয়েভ ডিজাইনার হতে হবে। যখনই আপনি একজন এক্সপার্ট ওয়েভ ডিজাইনার হয়ে উঠবেন তখনই আপনি এটিতে হিউজ পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ওয়েবসাইট ফ্লিপিং হল, আপনার নিজের কোন বানানো বা স্বল্প খরচের ওয়েবসাইট অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া। কিন্তু আপনার সাইটটি বিক্রি করার পুর্বে আগে সুন্দর করে  সাজাতে হবে। তারপর আপনার সাইটে অনেক বেশি ভিউয়ার আনতে হবে। যাতে করে আপনার সাইটটি বায়ারদের চোখে পরে।  এরপর কাজ শুরু করলে যেন অনেক বেশি লোকজনের কাছে পৌছাতে পারে। এক কথায় আপনার সাইটটি জনপ্রিয় করে তুলতে হবে এবং কাজের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে। এরপর এই সব কাজ করা হলে আপনি আপনার সাইট অনেক টাকাতে বিক্রি করতে পারবেন।

 

ইউটিউবিং

বর্তমানে মানুষ ইউটিউব এর উপর বেশ ঝুঁকে পড়েছে। ইউটিউবে ভিডিও দেখে না এমন মানুষ এখন খুজে পাওয়া যাবেনা বল্লেই চলে। আপনি চাইলে এই ইউটিউব থেকেও ইনকাম করতে পারবেন। এরপর সর্বপ্রথম প্রয়োজন ভালো কনটেন্ট বানানোতে এক্সপার্ট হওয়া। কিন্তু কথা গুলি শুনে অনেক সহজ মনে হলেও আসলে কাজটা একটু কঠিন আছে কারন ইউটিউব রয়েছে কিছু রুলস এন্ড রেগুলেশন যেটি আপনাকে মানতে হবে তা না হলে আপনার চ্যানেলটি ব্যান হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ সরুপ বলা যায় আপনি কোন এডাল্ট ভিডিও বা সুইসাইডাল টাইপের কোন ভিডিও আপলোড করতে পারবেন না। আপনাকে শিক্ষামূলক বা কমেডিয়ান বা টিউটোরিয়াল বা মিউজিক ভিডিও বা নাটক বা কোনো জিনিসের রিভিউ ইত্যাদি নিজের মত করে বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। তবে অন্য কারোর ভিডিও নিজের চ্যানেলে আপলোড করা যাবে না। এরপর আসি আপনি কিভাবে টাকা ইনকাম করতে পারবেন?  এর জন্য আপনার চ্যানেল মাইটাইজ করতে হবে এবং অ্যাডসেন্স অ্যাড করতে হবে। অ্যাডসেন্স অ্যাড করতে হলে   মিনিমাম ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আর আপনার চ্যানেলের সমস্ত ভিডিও মিলে লাস্ট ১ বছরে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে।

 

এই কাজ  যখন আপনার চ্যানেল পরিপূর্ণ করতে পারবে, তখনই আপনি অ্যাডসেন্সের জন্য অ্যাপলিকেশন করতে পারবেন। অ্যাপলিকেশনের পর অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার চ্যানেলটি ভাল করে রিভিউ করবে এবং আপনার চ্যানেলটি অ্যাপ্রুভ করে দেবে।

 

আর অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলেই আপনি আপনার ভিডিও গুলো থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আমার দেখা অনেকেই আছে যারা রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে এই ইউটিউব থেকেই। আবার এমন লোকও জানা আছে যারা ইউটিউবে সারা বছর কাজ করেও কিছু করতে পারে নি। তো এই জন্য আপনাকে মন দিয়ে কাজ করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত ভিডিও বানাতে হবে তাহলে আপনি এই কাজে সফল হতে পারবেন।

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন না। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল অনলাইনের যেকোনো প্রোডাক্ট প্রোমোট করা এবং যদি কোনো ব্যাক্তি আপনার এড দেখে প্রোডাক্টটি কিনে তাহলে আপনি কিছু টাকা কমিশন পাবেন এটিই হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।  এর জন্য আপনাকে প্রথমে একটি অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে আপনি যে সাইট থেকে পন্য গুলির এড দিতে চান সেই সাইট এবং  এরপর আপনাকে একটি ওয়েবসাইটও ক্রিয়ট করতে হবে যেটির মাধ্যমে আপনি এড দিবেন। এরপর আপনার সাইটে প্রচুর ভিউয়ার আনতে হবে এবং তারপর  আপনার এফিলিয়েট লিংকে ঢুকে যদি কেউ আপনার প্রমোট করা  পণ্যটি  ক্রয় করে তাহলে আপনি ঐ সাইট থেকে কমিশন পাবেন। এভাবে আপনি যতবেশি লিংক শেয়ার করে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন তত বেশিই ইনকাম হবে।  লিংক শেয়ার করার পর আপনাকে আর কোন কাজ করতে হবে না। ঐখান থেকেই ইনকাম আসতে থাকবে। কিন্তু মনে রাখা ভালো আপনার লিংকে যদি কেউ ঢুকে পণ্য ক্রয় না করে তাহলে কিন্তু আপনার কোনো ইনকাম হবে না।

কমিশিনের টাকা গুলি আপনার একাউন্টে জামা হতে থাকবে এবং আপনি চাইলে যেকোনো অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা ক্যাশ করতে।

 

তো আজ এই পর্যন্ত আশা করি টাকা আয়ের কিছু উপায় মোটামুটি ক্লিয়ার একটি ধারনা দিতে পেরেছি। এর পরেও যদি কোন বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে  জানাবেনএবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্টে জানান

Leave a Comment