কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায় তার বিস্তারিত আলোচনা

অনলাইনে আয়। কথাটা অনেকবারই শুনেছি। বেশ মজারও লাগে শুনতে। মনে হয় যে, ইসস, আমি যদি অনলাইনে আয় করতে পারতাম! হ্যা আপনি পারবেন। আমি সেই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবো এখানে।

 

আমার এই একটা পোস্টই আপনাকে সঠিক পথ দেখানোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে কিভাবে শিখলে অনলাইনে আয় করা যাবে সেটা বিস্তারিত জানাবে যা ফলো করলে আপনি অনলাইনে আয় করার জন্য বেসিক ধারনার পাশাপাশি কিভাবে আয় করবেন তার সমস্ত কিছুই প্রাক্টিক্যালি বুঝতে পারবেন।

 

কিন্তু অনলাইনে আয়ের জন্য আপনাকে আমার এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভাল করে পড়তে হবে।

 

তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন। সেটা হল অনলাইনে আয় করা এতটা সহজ নয়। শুনে মনে হতে পারে যে এটা সহজ, কিন্তু এটা মোটেও সহজ কোন কাজ নয়।

 

যারা বলে অনলাইনে আয় করা সহজ, তারা নিজেদের ব্যবসার জন্যই আপনাকে টার্গেট করে এ কথা বলে যাতে আপনি তাদের মন গড়া কথা শুনে তাদের কোন প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে ভর্তি হয়ে যান অথবা টাকা দিয়ে তাদের কোন অনলাইন আয়ের টিউটোরিয়াল প্যাকেজ কেনেন।

 

যারা অনলাইনে কাজ করতে এসে ইনকাম করতে পারে না, ঠিক তখনই তারা এক একটা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে অন্যদের শিখিয়ে টাকা ইনকাম করার জন্য। আর যারা এই সব লোকদের কাছে শেখে তারাও ভাল ভাবে শিখতে পারে না। ফলশ্রুতিতে তারাও কাজ পায় না এই সকল মার্কেটোপ্লেসে। কারণ এদের গুরুরাই কাজ পাই নি, এরা পাবে কিভাবে!

 

অনলাইন এমন একটা ফ্লাটফর্ম যেখানে আপনি হিউজ পরিমাণ ইনকাম করতে পারবেন। আর যারা ইনকাম করে তাদের অন্য কোন কিছু করার টাইম থাকে না। এই প্লাটফর্মে লক্ষ লক্ষ লোক রয়েছে কাজ করার জন্য যার ফলে কাজ পাওয়াটা অনেক কঠিন।

 

কারণ আপনি যখন বাজারে যান একটি পণ্য কিনতে তখন অনেক দোকান ঘুরে ঘুরে একটি মাত্র দোকান থেকেই কিন্তু আপনি পণ্যটা কেনেন। কারণ যে দোকানে দামে ও মানে ভাল পাবেন আপনি সেই দোকান থেকেই কিনবেন।

 

ঠিক তেমনই অনলাইনে বায়াররা আপনার মত লক্ষ লক্ষ লোকদের কাজের মান ও দাম দেখে কাজ দেয়। আর কাজ যারা পায় তাদের সংখ্যা মাত্র কয়েক শত। লক্ষ লক্ষ লোকদের ভিতর কয়েক শত লোক কাজ পায়। এবার নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে কতটা কঠিন এখান থেকে ইনকাম করা।

 

আমি আপনাকে একটা কথা বলি। আপনি যদি নিজে নিজে কিছু শুরু করেন। আর সেটার পেছনে আপনার পরিশ্রম যদি পরিপূর্ণ ভাবে দেন, তাহলেই আপনি সফলতা পাবেন।

 

এখন আসি মূল কথায়। আমি আপনাদের অনলাইন ভিত্তিক কিছু কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলে দিবো যা ফলো করলে অবশ্যই আপনি আয় করতে সক্ষম হবেন। মনে রাখবেন, আমি কিন্তু এর জন্য কোন টাকা পয়সা নিচ্ছি না। তাই মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

 

কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং

অবশ্যই এই সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন। কিন্তু যারা এই বিষয়ে মোটেই জানেন না তাদের মন খারাপ করার প্রয়োজন নেই কারণ তারাও আমার এই পোস্টে ভাল করে বুঝে যাবেন, ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে আয় করা যায়।

 

ফ্রিল্যান্সিং হল একটি অনলাইন কাজের প্লাটফর্ম। এখানে মানুষ ভিড় করে কাজের জন্য। এখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায়। হাজার হাজার কাজ রয়েছে এই প্লাটফর্মে। যারা যে বিষয়ে পারদর্শী তারা সেই বিষয়টা সিলেক্ট করে কাজ করার জন্য।

 

মনে করুন, আপনি সংসারের জন্য কিছু জিনিস পত্র কিনবেন। এখন আপনি কষ্ট লাঘবের জন্য এবং টাকা বাচানোর জন্য এমন কিছু দোকানে যাবেন যেখানে আপনার চাহিদা মোতাবেক সব জিনিস পত্রই থাকে।

 

ফ্রিল্যান্সিং ঠিক একটা দোকানের মতই। মুদির দোকানে যেমন অনেক জিনিস পাওয়া যায়, তেমন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মেও অনেক কাজ পাওয়া যায়। মুদির দোকানিরা যেমন তাদের পণ্য সাজিয়ে রাখে দাম ও মান সহ। ঠিক ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মেও কাজ সাজিয়ে রাখা হয় সেই কাজের মান ও দাম সহ। আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুজে সেটা করে দিতে পারলে আপনি টাকা পাবেন।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক সাইট আছে যেমন freelancer.com, upwork.com, fiverr.com ইত্যাদি।

 

এই সমস্ত সাইটে আপনাকে নিজের ইনফরমেশন দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপর নিজের মত কাজ খুজে নিতে হবে। এই যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, অ্যানিমেশন ক্রিয়েটিং, ভিডিও মেকিং, গেম মেকিং, অ্যাপস বিল্ডিং ইত্যাদি।

 

আপনাকে কাজ পেতে হলে আগে আপনাকে এই সকল কাজের জন্য পারদর্শী হতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনিই কাজটা ভাল পাবেন। তাহলেই কাজ পাবেন।

 

এবার আসি পেমেন্টের বিষয়ে। আপনি যখন এই সকল সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলবেন, তখন আপনার ঐ অ্যাকাউন্টেই ইনকামের টাকা অ্যাড হবে। আর এই টাকা আপনি ভিসা বা মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে তুলতে পারবেন।

 

আশা করি বুঝতে পারেছেন।

 

পড়ুন: ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব? 

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এই কাজটা অনেক সহজ হলেও ইনকাম করাটা সামান্য কঠিন। তবে ফ্রিল্যান্সিং থেকে সহজ। অনলাইনে এখন অনেক কেনা কাটার সাইট আছে। যেমন bikroy.com, amazon.com, daraz.com, othoba.com ইত্যাদি। এই গুলোর নাম তো কম বেশি নিশ্চয়ই সবাই জানেন। এখানে হাজার হাজার ধরনের পণ্য বিক্রি হয়। আর এখন অনেকেই আছেন যারা অলরেডি নিয়মিতই এই সব সাইট থেকে পণ্য কেনেন।

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল, এই সকল সাইট থেকে কোন একটা পণ্য আপনার রেফারেন্সে বিক্রি করে ইনকাম করা। আপনার রেফারেন্সে কোন পণ্য বিক্রি হলে সেটা থেকে আপনি কমিশন পাবেন। যারা বোঝেন নি, তাদের একটু ভেঙে বলি। মনে করুন কোন একটা লোক আপনাকে একটা পণ্য দিয়ে বলল যে, ভাই তুমি যদি এই পণ্যটা বিক্রি করে দিতে পারো তাহলে বিক্রির কিছু টাকা আমি তোমাকে কমিশন হিসাবে দেবো।

 

ঠিক এমনই হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি কেনাবেচার সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলবেন। যে সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলবেন সেই সাইট থেকে আপনি একটা বিজ্ঞাপনের অ্যাফিলিয়েট লিংক কপি করে আপনার বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ায় (এই যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, ওয়েবপেজ, ফেসবুক গ্রুপ ইত্যাদি) পাবলিশ করবেন। তারপর আপনার পাবলিশ করা লিংকে ঢুকে যদি কেউ ঐ পণ্যটি কেনে বা ক্রয় করে তাহলে আপনি কমিশন পাবেন।

 

এভাবে আপনি যত লিংক শেয়ারের মাধ্যমে যত বেশি পণ্য সেল করতে পারবেন। তত বেশিই ইনকাম হবে আপনার।

 

পড়ুন: 

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? [খুবই সিম্পল একটি আলোচনা]
এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন? [উল্লেখযোগ্য ১০ টি কারণ জানুন]
এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো তার সঠিক দিক নির্দেশনা

 

অ্যাডসেন্স

গুগলের এডসেন্স অনলাইনে আয়ের একটি ভাল উপায়। আপনি চাইলে খুব সহজেই এডসেন্স থেকে আয় করতে পারেন।

 

কিন্তু সমস্যা হল নানাজনে আপনাকে নানা নেগেটিভ কথা শোনাবে এই এডসেন্স সম্পরকে এই যেমন ধরেন এডসেন্স পাওয়া খুবই কঠিন ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

কারো কথায় কান না দিয়ে আপনি আপনার মত চলুন কারন অধিকাংশ লোক নিজে ভাল মত না জেনে কমেন্ট করে ফেলেন।

 

অ্যাডসেন্স হল গুগলের একটি অ্যাড নেটওয়ার্ক। এখান থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে আগে থেকে কোন একটা সাইট থাকতে হবে বা এমন কোন মাধ্যম থাকতে হবে যেটায় অ্যাডসেন্সের অ্যাড শো করানো যায়। অর্থাৎ অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করে।

 

টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকেরা যেমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচার করে তাদের থেকে টাকা ইনকাম করে, ঠিক তেমনই আপনি অ্যাডসেন্সের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে আপনার কোন একটা সাইটে শো করালে অ্যাডসেন্স আপনাকে টাকা দেবে।

 

কিন্তু এর জন্য আপনার কোন টেলিভিশন চ্যানেল থাকার দরকার পড়বে না। আপনার অনলাইন কোন একটা মাধ্যম থাকতে হবে। এই যেমন ওয়েবপেজ, ইউটিউব চ্যানেল, নিজের তৈরি কোন কম্পিউটার বা মোবাইলের গেম ও অ্যাপস ইত্যাদি।

 

আপনার সাইটে অ্যাড শো করার জন্য আপনাকে অ্যাডসেন্সের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে। আপনি যে মাধ্যমে অ্যডসেন্সের অ্যাড যোগ করতে যান সেই মাধ্যমটা অ্যাডসেন্স ভাল করে রিভিউ করবে। এর পর যদি অ্যাডসেন্স দেখে যে আপনার সাইট বা মাধ্যম অ্যাডসেন্সের অ্যাড শো করার জন্য উপযুক্ত, তাহলেই আপনাকে অ্যাডসেন্সের অ্যাড শো করার অনুমতি দেবে।

 

অ্যাডসেন্সের অ্যাড শো করার জন্য আপনাকে অনেক বেশি অ্যাকটিভ থাকতে হবে। কারণ ইনক্যাক্টিভ কেউকেই অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করে না। আপনার সাইট বা মাধ্যম যদি কোন এডাল্ট কনটেন্টের হয়, তাহলে অ্যাডসেন্স ঐ সাইট বা মাধ্যম কোনভাবেই অ্যাপ্রুভ করবে না। তাছাড়া আপনার মাধ্যম যদি কোন ব্যক্তি প্রধানদের জন্য হুমকি স্বরূপ হয় তাহলেও অ্যাডসেন্স মিনিটাইজেশনের অনুমতি দেবে না।

 

এছাড়া অ্যাডসেন্সের অনেক কমিউনিটি গাইডলাইন আছে যে গুলো অ্যাডসেন্সের অ্যাড শো করার আগে থেকে জেনে রাখবেন। এগুলো পাবেন আপনি অ্যাডসেন্সের নিজস্ব সাইটে adsense.com এ।

 

আপনার সাইটে যত ভিউ হবে ততই ইনকাম আসবে।

 

ফেসবুক

ফেসবুকের নাম শুনে হয়তো অনেক ভাল লাগছে। ভাবছেন এতক্ষনে ভাল একটা অপশন খুজে পেয়েছে ইনকামের জন্য। কিন্তু প্রশ্ন আসতে পারে যে, ফেসবুকে কিভাবে ইনকাম করে। হ্যা, আমি সেটাই বলবো।

 

আগে ফেসবুক থেকে কোন ইনকাম করা যেত না। কিন্তু এখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ইনকাম করার মাধ্যম চালু করেছে। তবে এর জন্য আপনার নিজের পারসোনাল অ্যাকাউন্ট থাকলেই হবে না। আপনার একটি পেজ থাকতে হবে। আর ঐ পেজে ভিডিও ছেড়ে সেই ভিডিও এর উপর অ্যাড শো করিয়ে ইনকাম করতে পারবেন আপনি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ফেসবুক পেজ ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে আপাতত ইনকামের সোর্স রাখে নি।

 

এখন প্রশ্ন হল, ফেসবুকের পেজ থেকে কিভাবে ইনকাম করবো?

 

উত্তর হলঃ আপনার পেজে আপলোডকৃত ভিডিও এর উপর অ্যাড শো করিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। হ্যা, এটাও অ্যাডসেন্সের মতই। কিন্তু ফেসবুক অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করে না। তাদের নিজস্ব মনিটাইজেশনের অপশন আছে। সেখান থেকে অ্যাড শো করানোর জন্য ফেসবুক থেকে মনিটাইজেশন অন করে নিতে হবে। তবে এর জন্য কিছু গাইড লাইনও আছে। কারণ একটা পেজ থাকলেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মনিটাইজেশনের অনুমতি দেয় না।

 

আপনার পেজে মিনিমাম ১০ হাজার লাইক থাকতে হবে এবং লাস্ট ৩ টি ভিডিওতে ৩ হাজার ওয়ান মিনিট ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে। নিশ্চয়ই বুঝতেই পারছেন এর জন্য আপনাকে কতটুকু খাটতে হবে আপনার পেজের পেছনে।

 

উপরের কোটা পূরণ করতে পারলেই আপনি আপনার পেজটি মনিটাইজেশন করতে পারবেন। অন্যথায় পারবেন না। তবে অ্যাডসেন্সের থেকে ফেসবুকের মিনিটাইজেশনে ইনকাম কম হয়। কিন্তু ফেসবুক চালানোর পাশাপাশি যদি ইনকাম হয় তাহলে ক্ষতি কি। তবে ফেসবুক সকল ভিডিও এর উপর অ্যাড শো করায় না।

 

কি কি বিষয় জানতে হবে মনিটাইজেশন অন করার জন্য সেটা ফেসবুকের গাইড লাইনে গেলে ভাল করে বুঝতে পারবেন।

 

ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

আপনি যদি ভাল একজন ওয়েব ডিজাইনার ও ওয়েব সাইট ডেভেলপার হন তাহলে এটি আপনার জন্য অনেক বড় একটি ইনকাম সোর্স হবে। কারণ ওয়েবসাইট ফ্লিপিং এ হিউজ পরিমাণ ইনকাম করা যায়। তবে এর জন্যও আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

 

ওয়েবসাইট ফ্লিপিং হল, আপনার নিজের কোন বানানো বা স্বল্প খরচের ওয়েবসাইট অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া। শুধু সাইট বানালেই হবে না। আপনার সাইট হতে হবে প্রফেশনাল। যাতে করে বায়াররা আপনার সাইট কিনে ভাল ভাবে কাজে লাগাতে পারে।

 

আপনার সাইট সুন্দর করে আগে সাজাতে হবে। তারপর আপনার সাইটে অনেক বেশি ভিউয়ার আনতে হবে। যাতে করে আপনার সাইটের মাধ্যমে কোন কাজ শুরু করলে যেন অনেক বেশি লোকজনের কাছে পৌছাতে পারে। এক কথায় আপনার সাইটটি জনপ্রিয় করে তুলতে হবে এবং কাজের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে।

 

তাহলে আপনি আপনার ঐ স্বল্প টাকায় বানানো সাইট আপনার খরচের থেকে ৩০ গুণেরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। দামটা ততই বেশি হবে যত আপনার সাইটের ভিউয়ার বেশি হবে ও সৌন্দর্য্য দৃষ্টিনন্দন হবে।

 

ইউটিউব

ইউটিউব হল একটি ভিডিও দেখার মাধ্যম। আমরা তো সবাই কমবেশি ইউটিউব দেখি। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পাবেন। এখানে সব ধরনের টপিক্সের ভিডিও পাওয়া যায়।

 

তবে কথা হল কিভাবে এখান থেকে আয় করা যায়?

 

আপনি ইউটিউবে আপনার নিজের চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

 

অর্থাৎ আপনার আপলোড করা ভিডিও যত লোক দেখবে ততই ইনকাম হবে। কিন্তু ভিডিও আপলোড করলেই ইনকাম শুরু হবে না। এর জন্য আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে।

 

আপনাকে প্রথমে ইউটিউবের কমিউনিটি গাইড লাইন ভাল করে পড়ে নিতে হবে। এগুলো পাওয়া যাবে youtube.com এ। তারপর আপনাকে সুন্দর করে একটা চ্যানেল খুলতে হবে। এরপর চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে হবে। ভিডিও আপলোডের পর অ্যাডসেন্সের সাথে আপনার ইউটিউব চ্যানলটিকে অ্যাড করে দিতে হবে।

 

এর পর অ্যাডসেন্স আপনার ভিডিও এর উপর অ্যাড শো করাবে। আর আপনার ভিডিও এর ভিউ যত হবে সেই অনুযায়ী টাকা পাবেন। চ্যানেলে অ্যাডসেন্স অ্যাড করার আগে এবার অ্যাডসেন্সেরও কমিউনিটি গাইড লাইনগুলো ভাল করে দেখে নিতে হবে।

 

এবার কথা হল, আমি কিভাবে ইউটিউবে চ্যানেল খুলবো?

 

একটা ইউটিউব চ্যানেল খোলার জন্য আপনার একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। তারপর youtube.com এ যেয়ে sign in করতে হবে। তারপর যে নামে চ্যানেলটি খুলবেন সেই নাম দিয়ে দেবেন। ব্যস একটা চ্যানেল হয়ে গেল।

 

এবার আপনি আপনার চ্যানেলে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড করবেন। এই যেমন আপনি কোন শিক্ষামূলক বা কমেডিয়ান বা টিউটোরিয়াল বা মিউজিক ভিডিও বা নাটক ইত্যাদি নিজের মত করে বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। তবে অন্য কারোর ভিডিও নিজের চ্যানেলে আপলোড করা যাবে না।

 

তাছাড়া কোন এডাল্ট ভিডিও বা সুইসাইডাল টাইপের কোন ভিডিও আপলোড করা যাবে না। তাহলে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ আপনার চ্যানেলটিকে ব্যান করে দেবে।

 

এবার চ্যানেল খোলা হল, ভিডিও আপলোড করা হল, তাহলে অ্যাডসেন্স কিভাবে অ্যাড করবো?

 

অনেক আগে ইউটিউব ভিডিও ছাড়ার কিছু সময়ের মধ্যমেই আপনার ভিডিওতে অ্যাড শো করার পারমিশন দিত। কিন্তু এখন এটা তারা করে না। আপনার চ্যানেলে অ্যাডসেন্স অ্যাড করার জন্য মিনিমাম ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আর আপনার চ্যানেলের সমস্ত ভিডিও মিলে লাস্ট ১ বছরে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে।

 

এই রুলটা যখন আপনার চ্যানেল পরিপূর্ণ করতে পারবে, তখনই আপনি অ্যাডসেন্সের জন্য অ্যাপলিকেশন করতে পারবেন। অ্যাপলিকেশনের পর অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার চ্যানেলটি ভাল করে রিভিউ করবে। যদি আপনার চ্যানেলে কোন খারাপ কিছু না পায় তাহলে অ্যাডসেন্স আপনার চ্যানেলটি অ্যাপ্রুভ করে দেবে।

 

আর অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলেই আপনি আপনার ভিডিও গুলো থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আমার দেখা অনেকেই আছে যারা রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে এই ইউটিউব থেকেই। আবার এমন লোকও জানা আছে যারা ইউটিউবে সারা বছর কাজ করেও কিছু করতে পারে নি। শেষ পর্যন্ত ইউটিউব ছেড়ে দিয়েছে।

 

মূল কথা হল, ভাল ভাবে এবং পরিশ্রমী হয়ে কাজ গেলে আর ইউটিউবের গাইড মোতাবেক কাজ করলেই এখান থেকে আপনি সফলতা পাবেন। অন্যথায় কিছুই করতে পারবেন না।

 

আরো পড়ুন:
ইউটিউবিং কি: সবথেকে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট সম্পর্কে কিছু কথা
ইউটিউব থেকে কত আয় করা যায় তার সোজাসাপ্টা আলোচনা
ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম জেনে নিন এই পোস্ট থেকে

 

আশা করি উপরের সকল অনলাইন ভিত্তিক কাজ গুলোর পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে পেরেছি। আপনি যাই করেন না কেন, তার জন্য দরকার সঠিক পরিশ্রম। কারণ একটা কথা মনে রাখবেন, স্বল্প কষ্টে অর্জিত আয় দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

 

এই রকম আরো অনেক বিষয় আমি প্রতিদিন তুলে ধরার চেষ্টা করবো আমার এই সাইটে। সবাই ভাল থাকবেন। ভাল লাগলে অন্যদের দেখার সুযোগের জন্য শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান আর ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

1 thought on “কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায় তার বিস্তারিত আলোচনা”

Leave a Comment