ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়

একটি ওয়েবসাইট থেকে নানাভাবে আয় করা যায় এবং আমি কোন  কথা না বাড়িয়ে এখনই তা একে একে দেখাতে থাকবো।

 

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন সেটা যে ব্যবসাই হোক না কেন, একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে  আপনি আপনার ব্যবসার আয় বহুগুনে বাড়াতে পারবেন।

 

আবার আপনি যদি একজন চাকুরীজীবি বা বেকার বা স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেশ কিছু নতুন উপায়ে আয় করতে পারবেন, ফলে চাকুরীর পাশাপাশি বাড়তি আয়ও করতে পারবেন বা বেকার হলে আপনার বেকারত্ব ঘুঁচে যাবে ইনশা আল্লাহ।

 

ওয়েবসাইট থেকে কি REALLY আয় করা যায় নাকি এটা প্রতারণা?

ঘরে বসে যে আয় করা যায় তা শুনলে এখনো বাংলাদেশের অনেকের কাছে গাঁজাখুরি গল্পের মতোই মনে হয়।

 

আসলে এটা আমাদের দেশের খুবই একটা বাজে মনোভাব যে আমরা যে বিষয়ে না জানি সে বিষয়টাকে কোনোরকম পাত্তাই দিতে চাই না সে তা যত ভালোই হোক না কেন।

 

যাই হোক ঘরে বসে আয়ের সব থেকে ভালো উপায় হতে পারে আপনার একটি ওয়েবসাইট।

 

কেন জানেন?

 

কারণ একটি ওয়েবসাইট থেকে নানাভাবে আয় করা যায় এবং এই গাইডে আমি একটি ওয়েবসাইট থেকে আয়ের পদ্ধতি স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো ও আপনিও যে চাইলে একইভাবে আয় করতে পারেন তার একটি সঠিক দিক নির্দেশনা গাইডটির একেবারে শেষে তুলে ধরবো।

 

ঠিকভাবে একটি ওয়েবসাইট শুরু করে এতে কাজ করতে পারলে খুব দ্রুত তা থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করা যায়।

 

কিন্তু প্রধান সমস্যা হলো বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট থেকে সঠিক উপায়ে আয় করতে হয়।

 

আমিও এই পর্যন্ত অনেক ভুল থেকে শিখেছি ও এখন ও পর্যন্ত প্রতিনিয়ত শিখছি।

 

আরেকটি সমস্যা হলো শর্টকাটে সব কিছু পাওয়ার আকাঙ্খা, কিন্তু কোনো ভালো কিছু করতে গেলে কিছুটা সময় দিতে হয়।

 

এই যেমন একটি ওয়েবসাইট থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে আপনার কমপক্ষে এক বছর সময় দিতে হবে যা অনেকের কাছেই অনেক লম্বা সময়।

 

আসল কথা হলো শর্টকাট কিছু করার লোভ থেকে বেঁচে থাকুন, তবেই ভালো কিছু করতে পারবেন।

 

আর ওয়েবসাইট থেকে আমি যে আয়ের পথ দেখাবো সেটি সম্পূর্ণ আপনার ওয়েবসাইটে থেকেই, তাই এখানে প্রতারণার কোনো সুযোগই নেই।

 

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অসংখ্য মানুষ ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। আমিও ইতোমধ্যে আমার একটি ওয়েবসাইট থেকে মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করি।

 

কিন্তু সমস্যা হবে তখন যখন আপনি কিছুদিন কাজ করে সাফল্য না দেখলে ছেড়ে দেবেন।

 

তখন আপনি ঠিকই বলবেন যে ওয়েবসাইট থেকে আসলে আয় হয় না এটা একটা নিছক প্রতারণা।

 

আশা করছি আপনার ক্ষেত্রে এমন কিছু হবে না কারণ আপনি লেগে থেকে আপনার ওয়েবসাইটকে সফল করে তুলবেন!

 

ওয়েবসাইট থেকে আয় কাদের জন্য?

পড়াশুনা, চাকুরী, বা অন্য কোনো ব্যবসার পাশাপাশি আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরী করে তা থেকে আয় করতে পারেন।

 

আর যারা বেকার তাদের জন্য আরো ভালো কারণ তারা ফুল-টাইম দিয়ে এই কাজ শুরু করতে পারবে।

 

আর সবথেকে বড় কথা হলো আপনার মধ্যে থিঙ্ক বিগ মেন্টালিটি (Think Big) থাকা তার মানে হলো আপনি যে জীবনে ভালো কিছু করতে পারবেন, লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারবেন তার বিশ্বাস নিজের মধ্যে থাকা।

 

একটু ভেবে দেখুন যে আজকের এই যুগে এক লক্ষ টাকা কিন্তু খুব বড় অংকের কোনো এমাউন্ট না, কিন্তু আপনাদের অনেকেই এটা ভাবতে পারছেন না যে চাইলে আপনারাও এই পরিমান বা এর থেকে অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারেন।

 

এর কারণ হলো আপনার চিরচেনা পরিবেশ।

 

আপনি ছোটবেলা থেকেই দেখেন যে টাকা আয় করতে গেলে পড়াশুনা করে কোনোমতে একটা চাকুরী নিতে হয় আর তারপর গতানুগতিকভাবে জীবন চালাতে হয়।

 

তো প্রথম কথা হলো থিঙ্ক বিগ

 

তীর যদি ছুড়তেই হয় তবে গাছের দিকে নয়, আকাশের দিকে ছোড়েন। আকাশে না পৌঁছালেও, ঠিকই তা গাছ থেকে অনেক ওপরে যাবে।

এস, এম, এন, জামান

 

ওয়েবসাইট থেকে আয় হতে কত সময় লাগবে?

আগেই বললাম যে কমপক্ষে এক বছর আপনার সাইটে কাজ করতে হবে।

 

তবে এর থেকে কম বা বেশি সময় ও লাগতে পারে আপনার কাজের ওপর নির্ভর করে।

 

ও হ্যা, আপনার সাইট থেকে খুচরা আয় অল্প কিছুদিন থেকেই শুরু হতে পারে।

 

আর কিছুটা ভাগ্য তো লাগেই।

 

কাজ করতে থাকলেই ভাগ্য আপনার সহায় হবে, কিন্তু কাজ না করে ভাগ্যের আশা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

ওয়েবসাইট থেকে আয় কারা করতে পারবে?

ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে হলে আপনার ৩ টি জিনিস থাকতে হবে:

১. পসিটিভ মানসিকতা
২. নিয়মিত কাজ করার মানসিকতা
৩. ইংলিশ রাইটিং এ কিছুটা পারদর্শিতা

 

তবে আপনি চাইলে বাংলা ভাষাতেও ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে ইনকামের পরিমান কিছুটা কম হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

এখন একটু এই ৩ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

 

প্রথমত কোনো ভালো কিছু করতে হলে আপনার পসিটিভ মানসিকতা তৈরী করতে হবে।

 

আমাদের দেশের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই অনেকটা নেগেটিভ কথা শুনে বড় হয় আর তারা তাদের নেগেটিভ মানসিকতা আজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায়।

 

কিন্তু আপনি যদি কোনো বিষয়ে পসিটিভ মনোভাব পোষণ করতে পারেন, তবে আপনি পসিটিভ রেজাল্ট পাওয়া শুরু করতে পারবেন।

 

আমি যখন অনলাইনে কাজ করা শুরু করি, তখন আমি অনেক পসিটিভ ছিলাম যদিও তখন অনেক প্রতারণামূলক ক্লিক ব্যবসা আমাদের দেশে চলছিল।

 

আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতাম যে অনলাইনে বৈধ কাজ অবশ্যই আছে যা থেকে মানুষ সত্যি সত্যিই আয় করছে।

 

অনেককেই দেখেছি যারা আমার সাথে অনলাইনে কাজ শুরু করেছিল তারা অনলাইন সম্পর্কে অনেকটাই নেগেটিভ মানসিকতা পোষণ করতো।

 

এদের মেজরিটিই কয়েক মাসের মধ্যে কাজ ছেড়ে দিয়েছিলো।

 

কিন্তু আমি অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে সফলভাবে অনলাইনে কাজ করে আয় করা শুরু করতে পেরেছিলাম।

 

আর পসিটিভ মানসিকতা গ্রো করতে পারলে আপনি নিয়মিত কাজও করতে পারবেন।

 

নিয়মিত সঠিক উপায়ে কাজ করলে আপনি সফল হবেনই সে যে কাজই হোক।

 

আর ইংলিশকে ভয় পেলে বাংলায় এখনই অনেক অপরচুনিটি আছে ও প্রতিনিয়ত তা বেড়েই চলেছে।

 

সতর্কতা!

দেখেন আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে অনেক আয় করতে পারবেন যদি আপনি ছেড়ে না দেন, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই খুব দ্রুত হাল ছেড়ে দেয়।

 

তো আপনি আপনার ওয়েবসাইট শুরুর প্রথম দিন থেকেই এই বলে প্রতিজ্ঞা করুন যে আপনি কখনোই তা ছেড়ে দেবেন না।

 

এটা যদি করতে পারেন, তবে আমি কথা দিচ্ছি যে আপনি আপনার সাইট থেকে ভালো অংকের টাকা আয় করতে পারবেন।

 

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায় [স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি দেখুন]

এইবার আমি একটি ওয়েবসাইট থেকে লক্ষাধিক টাকা আয়ের পদ্ধতি দেখাতে থাকবো।

 

আপনার এই টেকনিকগুলো নিয়মিত ফলো করতে হবে, তাই এখনই এই ওয়েবপেইজটি বুকমার্ক করে রাখুন যাতে করে নিয়মিত পদ্ধতিগুলো ফলো করতে পারেন।

 

একটি সাইট থেকে আয় করতে আপনাকে ৪ টি স্টেপ পার করতে হবে।

 

স্টেপ ১. আপনার নিশ (Niche) সিলেক্ট করে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করুন

যেহেতু আমি আপনাকে একটি ওয়েবসাইট থেকে আয় করার ফর্মুলা দেখাচ্ছি, তাই সবার প্রথম আপনাকে আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট খুলতে হবে।

 

একটি ওয়েবসাইট চালু করতে খুব বেশি খরচ হয় না তারপরেও আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েরা কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে রাজি না।

 

কিন্তু আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটটিকে একটি ব্যবসার জন্য জমির সাথে তুলনা করতে হবে।

 

একখণ্ড জমি ছাড়া যেমন আপনি আপনার ব্যবসার কোনো স্থাপনা সৃষ্টি করতে পারবেন না, তেমনি একটি ওয়েবসাইট ছাড়া আপনি আপনার ব্যবসাই শুরু করতে পারবেন না।

 

[এখন এখানে ক্লিক করে নিজেই নিজের ওয়েবসাইট তৈরির পদ্ধতি শিখুন]

 

উক্ত গাইডে আমি একটি ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় তার সকল দিক নির্দেশনা দিয়েছি।

 

আর নিশ সম্পর্কে কিছু কথা বলে রাখি। নিশ হচ্ছে আপনার সাইটের বিষয়বস্তু, তাই আপনি যে বিষয়ের ওপর আপনার সাইটটিতে আলোচনা করবেন, সেটিই হবে আপনার নিশ।

 

স্টেপ ২. আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট তৈরী করতে থাকুন

আপনার সাইটটি রেডি হয়ে গেলে এখন আপনাকে আপনার সাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ শুরু করতে হবে আর তা হলো কন্টেন্ট তৈরী করা।

 

হ্যা, বলা হয়ে থাকে কন্টেন্ট ইস কিং।

 

তো আপনাকে আপনার সাইটের জন্য সুন্দর সুন্দর কন্টেন্ট তৈরী করতে হবে।

 

একই সাথে আপনার কন্টেন্টগুলো কিন্তু এস ই ও কন্টেন্ট হতে হবে যাতে করে তা সার্চ এঞ্জিনে প্রথম পেইজে জায়গা করে নিতে পারে।

 

কিভাবে কন্টেন্ট তৈরী করবেন তার পূর্ণাঙ্গ গাইড আমি এই লিংকে দেখিয়েছি।

 

উক্ত লিংক থেকে এস ই ও কন্টেন্ট তৈরির কৌশল রপ্ত করে নিন।

 

স্টেপ ৩. আপনার সাইটে বেশি বেশি ভিজিটর আনতে থাকুন

আপনার সাইটের জন্য শুধুমাত্র কন্টেন্ট তৈরী করলেই হবে না, আপনাকে বেশি বেশি ট্রাফিক আপনার সাইটে নিয়ে আসতে হবে।

 

ট্রাফিক হলো আপনার সাইটের ভিজিটর।

 

বিভিন্নভাবে আপনার সাইটে ট্রাফিক আনা যায় যা আমি এই গাইডে দেখিয়েছি।

 

স্টেপ ৪. আপনার ওয়েবসাইট মনেটাইজ করুন

আপনার সাইটে কিছু সংখ্যক কন্টেন্ট হয়ে গেলে ও নিয়মিতভাবে ভিজিটর আসতে থাকলে আপনি আপনার সাইট থেকে বিভিন্নভাবে আয়ের মাধ্যমগুলো এপলাই করতে থাকুন।

 

এখন আমি আপনাদের দেখাবো একটি ওয়েবসাইট থেকে আয়ের ২০ টি উপায় যার মাধ্যমে আপনি আপনার সাইট থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারবেন।

 

একটি ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়!

২০ টি নিখুঁত পদ্ধতি সম্পর্কে এক্ষুনি জানুন:

১. এফিলিয়েট মার্কেটিং (ডিজিটাল এন্ড ফিজিক্যাল প্রোডাক্টস)

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি খুব ভালোভাবে আপনার সাইটকে মানিটাইজ করতে পারেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অন্য কোম্পানির প্রোডাক্ট একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশনের ভিত্তিতে বিক্রি করা।

 

আপনি জেনে খুশি হবেন যে আজকাল অধিকাংশ কোম্পানিই তাদের প্রোডাক্টের জন্য এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু রাখে।

 

আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্টের লিংক আপনার সাইটে ব্যবহার করে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ভালো আয় করতে পারেন।

 

প্রথমেই আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়ের দিকে নজর দেয়া উচিৎ। এজন্য বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস এ সাইন আপ করুন।

 

বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস এ সম্পূর্ণ ফ্রি সাইন আপ করে কাজ শুরু করা যায়।

 

২. এডসেন্স

এডসেন্স এর নাম শুনেননি এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম হওয়ার কথা।

 

এডসেন্স হলো গুগল এর পে পার ক্লিক এড নেটওয়ার্ক যেখান থেকে আপনি নিয়মিত আয় করতে পারবেন।

 

এডসেন্স এর মতো আরও অনেক পে পার ক্লিক এড কোম্পানি যেমন ইনফোলিংকস, মিডিয়া ডট নেট আছে যাদের মাদ্ধমেও আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারেন।

 

৩. স্পন্সরড পোস্ট

স্পন্সরড পোস্ট হলো আপনার সাইটে অন্য কোনো কোম্পানির পোস্ট পাবলিশ করা। এর বিনিময়ে ওই কোম্পানিটি আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেবে।

 

আমি নিয়মিত স্পন্সরড পোস্ট পাবলিশ করার জন্য রিকোয়েস্ট পাই এবং এর জন্য আমি ২৫ থেকে শুরু করে ১০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করি।

 

আপনার সাইটটি একটু গ্রো করলে নিয়মিত স্পন্সরড পোস্টের জন্য আপনার কাছে রিকোয়েস্ট আসতে থাকবে যা থেকে আপনি ভালো আয় করতে পারবেন।

 

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরের পরিমান বেশ ভালো হলে অনেক কোম্পানিই তাদের সম্পর্কে আপনাকে লিখতে বলতে ও তা আপনার ওয়েবসাইটেই পাবলিশ করতে রিকোয়েস্ট করতে পারে।

 

বিনিময়ে তারা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা প্রদান করবে। এ ধরণের পোস্টকে স্পন্সরড পোস্ট বলে।

 

স্পন্সরড পোস্ট লিখে ভালো আয় করা যায়।

 

৪. ডোনেশন

আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ডোনেশন নেয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন। এ ধরণের ডোনেশন ভিত্তিক ওয়েবসাইট করে অনেক দাতাসংস্থা তাদের ফান্ড ক্রিয়েট করে।

 

একটি সাইট থেকে ডোনেশনের মাধ্যমেও আয় করা সম্ভব।

 

ডোনেশনের জন্য আপনি আপনার সাইটে একটি সেকশন রাখতে পারেন এবং আপনার অডিয়েন্সকে ডোনেশন দেওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট করতে পারেন।

 

দেখবেন অনেকেই ডোনেশন করছে।

 

আর যদি আপনি কোনো সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন, তবে ডোনেশন পাওয়া আরো সহজ হয়ে যাবে।

 

৫. সাবস্ক্রিপশন (কিছু এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট এর জন্য)

আপনার সাইটের কিছু অংশে প্রিমিয়াম কনটেন্ট রাখতে পারেন যা আপনার অডিয়েন্সদের কিনে নিতে হবে। এভাবে আপনি আপনার সাইট থেকে আয় বাড়াতে পারেন।

 

আপনার সাইটের কনটেন্ট যদি খুব এক্সক্লুসিভ হয় তবে তা আপনি প্রিমিয়াম করে দিতে পারেন।

 

তার মানে হলো আপনার ওয়েব ভিজিটররা একটি নির্দিষ্ট মাসিক সাবস্ক্রিপশন এর মাদ্ধমে আপনার সাইটের কন্টেন্টগুলি পড়তে পারবে।

 

৬. এড স্পেস বিক্রি

আপনার সাইটে ভিজিটর সংখ্যা ভালো পরিমানের হলে অনেক কোম্পানি তাদের এড আপনার সাইটে দিতে চাইবে যার বিনিময়ে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা চার্জ করতে পারেন।

 

আপনার সাইটের ওপরের হেডার বা সাইডে বিভিন্ন এড প্রদর্শনের জন্য জায়গা রাখার ব্যবস্থা আছে।

 

আপনার ওয়েবসাইটে যদি বেশকিছু ভিজিটর হয়ে যায়, তখন আপনার ওয়েবসাইটটি কে কিন্তু একটি নিউসপেপার বা টেলিভশন চ্যানেল এর সাথে তুলনা করা যায়।

 

এসব থেকে কিভাবে আয় হয়? বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন এই সমস্ত চ্যানেল এ দেয় যাতে করে অনেক মানুষ তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারে।

 

আপনার সাইটে যেহেতু উল্লেখযোগ্যসংখক লোক ভিজিট করছে, তাই সেখানেও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হতে পারে।

 

আর বিজ্ঞাপন দিলেই তো আপনি আপনার ওয়েবসাইটের কিছু জায়গা তাদের কাছে বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

 

৭. ফ্রিল্যান্সিং

আপনার যদি কোনো ফ্রিল্যান্সিং স্কিল থেকে থাকে তবে তা কোনো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে না যেয়ে আপনার সাইটে প্রদর্শন করেই কাজ শুরু করতে পারেন।

 

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য চেনে শুধুমাত্র আপওয়ার্ক, ফ্রীলান্সার, এনভাটো মার্কেটপ্লেস ইত্যাদিকে।

 

কিন্তু তারা যে তাদের নিজেদের ওয়েবসাইট থেকেই দেশ-বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং কাজ পেতে পারে তা জানে না।

 

আমিও আগে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এ থেকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং জবে বিড করে কাজ পেতাম যেটা ছিল অনেক ঝামেলার।

 

এখন আমি আমার ইমেইলে প্রবেশ করলেই বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে একাধিক রিকোয়েস্ট পাই!

 

এটা কিভাবে পাই জানেন?

 

হ্যা, আমার অনেক কয়টি সাইট আছে এবং আমি SEO এবং অনন্য অনেক উপায়ে বিভিন্ন দেশের লোকজন কে আমার সাইটসমূহে নিয়ে আসি। অনেকেই তাদের নিজেদের কাজের জন্য আমাকে হায়ার করার জন্য আগ্রহী হয়।

 

এখন আমার খুবই ভালো লাগে এই ভেবে যে আগে আমি ক্লায়েন্টদের পিছনে ছুটতাম আর এখন ডিজিটাল মার্কেটিং এর বদৌলতে ক্লায়েন্টরা আমার পিছনে ছুটে (এটা কিন্তু কোনো অহংকার থেকে বলছি না, আনন্দ থেকে বলছি!)।

 

৮. ফ্রিল্যান্সিং মিডলম্যান

আপনি নিজে কাজটি না পারলে মিডলম্যান হিসেবে অন্য স্কীলড ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে আপনার ক্লায়েন্টদের কাজটি করে দিতে পারেন। এর বিনিময়ে আপনি একটি মধ্যভোগী হিসেবে ভালো আয় করতে পারবেন।

 

এজন্য আপনাকে শুধু জানতে হবে যে কিভাবে ক্লায়েন্টকে কনভিন্স করে কাজ পেতে হয়।

 

২০১৬ সালে আমি এমনভাবে কাজ করে অনেক আয় করেছিলাম।

 

৯. ফ্রিল্যান্সিং এজেন্সী

আর আপনার যদি একটি টিম থেকে থাকে তবে তাদেরকে নিয়ে একটি ফ্রিল্যান্সিং এজেন্সী গঠনের মাধ্যমেও আপনার সাইট থেকে আয় বাড়ানো সম্ভব।

 

১০. কনসাল্টিং

আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে কনসালট্যান্সি ও আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা সম্ভব!

 

আপনার সাইটের একটি অংশে আপনার কনসালট্যান্সির একটি পেইজ রাখুন যেখান থেকে আপনার ক্লায়েন্টরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

 

একইভাবে আপনি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ হলে তা কনসাল্টিং করুন অনলাইনেই।

 

আপনি ব্যবসায়িক পরামর্শক হলে ওয়েবসাইটের মাদ্ধমে একটি ফিস এর বিনিময়ে আপনার ক্লায়েন্টকে আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিন। এতে সুবিধা হবে যে আপনি ও আপনার ক্লায়েন্ট কাউকেই তাদের স্থান পরিবর্তন করতে হবে না।

 

১১. কোচিং

কোর্স বিক্রির মতো ডিজিটাল কোচিং ও হতে পারে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয়ের এক অনন্য উপায়।

 

আপনি কোনো বিষয়ের ওপর এক্সপার্ট হলে তা অন্যদেরকেও শেখাতে পারেন ভিডিও বা ভয়েস কলিং এর মাদ্ধমে। স্কাইপে, ফেইসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার ইত্যাদি আপনাকে ভিডিও কলিং এর ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে।

 

কিন্তু মূল কথা হলো আপনার শিক্ষার্থীদের সাথে কানেকটিং এর জন্য ওয়েবসাইট ছাড়া উপায় নেই।

 

১২. ড্রপশিপিং

ড্রপশিপিং এখন একটি খুবই জনপ্রিয় ব্যবসা এবং আপনিও এই কনসেপ্টটি ছোট পরিসরে আপনার সাইটে ব্যবহার করতে পারেন।

 

তো ড্রপশিপিং জিনিসটি কি?

 

আপনি যদি কোনো প্রোডাক্ট অগ্রিম না কিনে রেখেই ব্যবসা করতে চান তবে, তা ড্রপশিপিং এর পর্যায়ে পড়বে।

 

ধরেন আপনি একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে চান যেটি সবজায়গাতে পাওয়া যায় না, কিন্তু এর ব্যাপক চাহিদা আছে।

 

এক্ষেত্রে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রোডাক্টটি কিনতে হলে আপনার সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

 

আপনি শুধু বায়ার ও সেলারের মধ্যে একটা কানেকশন করে দেবেন।

 

১৩. কোর্স বিক্রি

আপনি যদি কোনো বিষয়ের ওপর দক্ষ হন, তবে তার ওপর একটি কোর্স তৈরী করে তা আপনার ওয়েবসাইটের মাদ্ধমে বিক্রি করতে পারেন।

 

অনলাইনে শুধু কোর্স বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করা লোকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়।

 

১৪. নিজের তৈরী ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি

প্রত্যেকটি মানুষই কিছু না কিছু তৈরী করতে পারে।

 

এই ধরেন আপনি হয়তো খুব ভালো কেক বানাতে পারেন! যদি তাই হয় তবে আপনি আপনার একটি অর্ডার পেইজ আপনার সাইটে রাখতে পারেন।

 

দেখবেন যে এই পেইজ থেকে অনেকেই তাদের কেক বানিয়ে দেওয়ার জন্য অর্ডার করছে।

 

১৫. ফ্যান প্রোডাক্টস বিক্রি

আপনার ওয়েবসাইটে নিয়মিত অনেকে ভিজিটর আসতে থাকলে তার মধ্যে অনেকেই আপনার ফ্যান হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। এই ফ্যান আপনার কিছু জিনিস তাদের কাছে রাখতে চাইবেই চাইবে।

 

তো কিছু ফ্যান প্রোডাক্ট এই যেমন টি-শার্ট, মগ, ক্যাপ ইত্যাদি বানিয়ে রাখুন যেখানে আপনার বা আপনার ওয়েবসাইটের প্রিন্ট থাকবে এবং আপনার অনেক ফ্যানই আপনার ওই প্রোডাক্টগুলো নিতে চাইবে।

 

আপনার ফ্যান প্রোডাক্টের একটি মূল্য নির্ধারণ করে তা আপনার ফ্যানদের কাছে বিক্রি করতে পারেন।

 

১৬. নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট (ইবুক, Apps, সফটওয়্যার ইত্যাদি) বিক্রি

বই বিক্রি করে ভালো আয় করা যায় তাই না?

 

তবে এখন লেখক হতে ও বই বিক্রি করে আয় করতে গেলে কিন্তু আপনার পাবলিশারদের পিছু হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় না।

 

আপনি ডিজিটালভাবে যেকোনো বিষয়ের ওপর একটি বই লিখতে পারেন যাকে ইবুক বলে।

 

এরপর আপনার ওয়েব ভিজিটরদের কাছে আপনি নির্দ্বিধায় আপনার ইবুক বিক্রি করে তা থেকে আয় করতে পারেন।

 

তার মানে হলো আপনি চাইলেই আপনার ওয়েবসাইটের একটি পেজ কে ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তর করতে পারেন।

 

১৭. হোস্টিং রিসেলিং

অনেকেই চায় নিজের একটি ওয়েবসাইট খুলতে এবং আপনি চাইলে রিসেলার হোস্টিং কিনে তা টুকরো টুকরো করে বিক্রি করতে পারেন।

 

১৮. ওয়েবিনারের আয়োজন

আরে এটা আবার কি?

 

বেশ সেমিনারের কথা তো শুনেছেন, তাই না?

 

হ্যা, অফলাইনে সেমিনার যা, অনলাইনে ওয়েবিনার ও ঠিক একই জিনিস।

 

আপনি কিন্তু বিভিন্ন ওয়েবিনারের আয়োজন করে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর কাছ থেকে একটা সাবস্ক্রিপশন ফী নিতে পারেন।

 

১৯. ই-কমার্স

দুনিয়া কাঁপানো আমাজন ডট কম কিন্তু একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট। চাইলেই আপনিও একটি ই-কমার্স সাইট তৈরী করে তা থেকে আয় শুরু করতে পারেন।

 

২০. ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

একটি ওয়েবসাইট জনপ্রিয় হয়ে গেলে কিন্তু তা অনেক টাকার বিনিময়ে বেচে দেয়া যায়! একে বলে ওয়েবসাইট ফ্লিপিং।

 

অনেকেই শুধুমাত্র ওয়েবসাইট ফ্লিপিংকেই তাদের মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

 

অনেক ওয়েবসাইট ফ্লিপিং সাইট আছে যেখানে এড দিয়ে আপনি আপনার ওয়েবসাইট বেচে দিতে পারেন।

 

আসলে একটি ওয়েবসাইট থেকে অনেকভাবেই আয় করা যায় এবং আপনি নিত্য-নতুন আয়ের পথ পেতে পারেন যদি কিনা আপনি অনন্য ওয়েবসাইট থেকে আয়কারীদের ফলো করেন।

 

সাবধান! ফলো করুন, কিন্তু কপি করবেন না দয়া করে।

 

সর্বোপরি যেকোনো ব্যবসার জন্য নেটওয়ার্কিং খুবই জরুরি আর একটি ওয়েবসাইট আপনাকে আপনার নেটওয়ার্কিং এর জন্য ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে।

 

আপনার জন্য ঢাকায় থেকে সিলেটের একজনের সাথে যোগাযোগ করা নাও হতে পারতো, কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট পৃথিবীর যেকোনো মানুষের সামনে মুহূর্তের মধ্যে আপনার ব্যবসাকে তুলে ধরতে পারে, শুরু হয়ে যেতে পারে অসংখ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক।

 

আপনার কোনো প্রশ্ন বা অভিমত থাকলে তা অবশ্যই কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান আর ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

1 thought on “ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়”

Leave a Comment