ওয়েবসাইট থেকে কত আয় করা যায় তার ক্লিয়ার আলোচনা

হ্যালো বন্ধুরা। ওয়েবসাইট থেকে কত টাকা আয় করতে পারবেন সেই বিষয় নিয়ে আমি আজ হাজির হয়েছি। আশা করি সবাই ভাল আছেন।

 

আমার সাইটের অন্যান্য কনটেন্ট নিয়মিত পড়ছেন তো? আশা করি অবশ্যই পড়ছেন কারণ আমি গালগপ্প কখনোই করি না। সব সময়ই বাস্তবভাবে কথা বলি। যা সত্য সেটাই তুলে ধরি। পাঠকদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সাইটে ভিজিটর আনা আমি একদমই পছন্দ করি না।

 

যাই হোক অনেক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম। কিছু মনে করবেন না প্লিজ। তো আসল কথায় ফিরি।

 

ওয়েবসাইট থেকে কত টাকা আয় করা যায় সেটা আসলে নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর। অনেকেই তাদের সাইটে বলে থাকেন যে, ওয়েবসাইট থেকে কোটি কোটি টাকা নিমিষেই আয় করা যায়। আমিও তাদের কথার সাথে একমত। তবে নিমিষে কথাটার সাথে একমত হতে পারলাম না কারণ ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করা এত সোজা নয়।

 

প্রচুর প্রচুর কষ্ট করতে হবে আপনার। সবাই বলে যে ওয়েবসাইট খুলেই আপনি ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু এটা একদমই মিথ্যা কথা কারণ ওয়েবসাইট খুলেই যদি ইনকাম করা যেত তাহলে দেশে কেউ বেকার থাকতো না। সবাই ওয়েবসাইট খুলেই কনটেন্ট লেখা লেখি করে আয় করা শুরু করে দিত।

 

মূলত যারা এই ধরনের লোভ দেখানো কথা বলে তারা আসলে তাদের সাইটের ভিজিটর বাড়ানোর জন্যই এই ধরনের কনটেন্ট পাবলিশ করে থাকে। ফলে বেশির ভাগ মানুষ এই ধরনের সাইটের কনটেন্ট পড়েই লেগে যায় ওয়েবসাইট থেকে আয় করার জন্য। ফলশ্রুতিতে কিছু দিন পরেই তারা আয় করতে না পেরে ওয়েবসাইট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

 

তাই এই ধরনের লোভ দেখানো কনটেন্ট পড়ে কোটি টাকা আয় করার স্বপ্ন বাদ দিয়ে বাস্তবটা বোঝার চেষ্টা করুন। সত্য জানার চেষ্টা করুন। তাহলে সত্যিই কোটি টাকা আয় করলেও করতে পারেন।

 

তো চলুন বাস্তবটা জেনে নি।

 

মূলত ওয়েবসাইট থেকে আয় আসে কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে। আপনি যে ধরনের কনটেন্ট আপনার সাইটে পাবলিশ করবেন সেই কনটেন্ট অনুয়ায়ী আপনার ইনকাম আসবে।

 

তবে ইনকাম করার জন্য আপনাকে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হবে কারণ ওয়েবসাইট খুলেই কয়েকটা কনটেন্ট পাবলিশ করলে ইনকাম হয় না। ইনকামের জন্য আপনার সাইটে ট্রাফিক বাড়াতে হবে অনেক। যখন আপনার সাইটটি অনির্দিষ্ট মাত্রায় হিউজ পরিমাণে ভিজিটর আসবে তখনই আপনার সাইট ইনকাম করার জন্য তৈরি হবে।

 

ওয়েবসাইট থেকে কত আয় করা যায়?

প্রথমেই একটু জেনে নি যে, ওয়েবসাইট টা কি? ওয়েবসাইট হল কয়েকটি ওয়েব পেজের সমন্বয়ে গঠিত সাইট। এখানে আপনি নিজের বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট লিখে পাবলিশ করতে পারবেন।

 

আর এই ওয়েবসাইটের কনটেন্টের মাধ্যমে আয় করা যায়। ওয়েবসাইট সম্পর্কে এবং ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে আয় করা যায় তা আমার সাইটে পাবেন। আগেই সে সকল সম্পর্কে আলোচনা করেছি আমি।

 

পে পার ক্লিক

পে পার ক্লিক অনুয়ায়ী ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম আসে। আপনার সাইটে যখন হিউজ পরিমাণে ভিজিটর প্রতিদিনই আসবে কনটেন্ট পড়ার জন্য তখন আপনার সাইটে দেওয়া বিজ্ঞাপনে কেউ যদি ক্লিক করে তাহলে সেই ক্লিক থেকে কিছু টাকা আপনি পাবেন।

 

প্রতি ক্লিকেই আপনি সাথে সাথে টাকা পেয়ে যাবেন। তবে প্রতি ক্লিকে কেমন টাকা দেয় সেটা নির্ভর করে সি পি সি এর উপর। যদি বিজ্ঞাপনের সি পি সি ভাল হয় তাহলে অনেক বেশি টাকা পাবেন আপনি।

 

তবে আপনি এক একটি বিজ্ঞপনের ক্লিকে সর্বনিন্ম ০.০১ সেন্ট করে পাবেন (১০০ সেন্ট এ হয় ১ ডলার)। সি পি সি বেশি হলে এই ০.০১ এর জায়গায় আপনি ১০ ডলারেরও বেশি পাবেন প্রতি ক্লিকে।

 

কিন্তু আপনার আয় বাড়বে মূলত কনটেন্টের উপর নির্ভর করে। যা আমি আগেও বলেছি। যদি আপনার কনটেন্ট ইংলিশে হয় তাহলে তুলনামূলক ভাবেই অনেক আয় হবে। কারণ ইংলিশ আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ায় এই কনটেন্টগুলো সারা বিশ্বের মানুষ পড়ে। ফলে অধিক সি পি সি এর অ্যাড শো করে আপনার সাইটে। এতে করে ইনকাম অনেক বেশি আসে।

 

অন্যদিকে বাংলায় কনটেন্ট হলে সেটা বাংলা ভাষার লোকজন ছাড়া কেউ পড়ে না। এতে করে ইন্টারন্যাশনাল হাই সি পি সি এর অ্যাড সাইটে শো করে না। এতে করে ইনকাম খুবই কম হয়। তাই সবচেয়ে ভাল হয় ইংলিশ কনটেন্ট নিয়ে কাজ করা। এতে করে আয় ভাল হবে।

 

এবার কথা হল যে, আপনার সাইটে হাই সি পি সি এর অ্যাড শো করলেও ইনকাম হবে না, যদি আপনার সাইটে ভিজিটর না আসে। কারণ বিজ্ঞপন এমন একটি জিনিস যে, কেউই বিজ্ঞাপন দেখতে চায় না। আর ক্লিক তো দূরে থাক। ফলে সাইটে বেশি ভিজিটর না হলে ক্লিক খুব কমই পড়ে।

 

মূলত প্রতিদিন আপনার সাইটে মিনিমাম ১০০০ ভিজিটর না আসা পর্যন্ত সর্বনিম্ম ইনকাম আসবে না। মনে করুন যদি প্রতি দিন আপনার সাইটে ১০০০ ভিজিটর আসে। তাহলে এদের মধ্যে মিনিমাম ২০% লোকজন অ্যাড এ ক্লিক করবে। তাই ভিজিটর যত বেশি হবে ততই ইনকাম বাড়বে।

 

যেহেতু মিনিমাম ২০% লোক অ্যাড ক্লিক করবে সেহেতু প্রতি অ্যাডে যদি মিনিমাম ০.১৫ সেন্ট করে পান তাহলে প্রতিদিন ইনকাম হবে ২০ ০.১৫ = ৩ ডলার। তাহলে মাসে আসে ৩ ৩০ = ৯০ ডলার। যদি প্রতি ডলার মিনিমাম ৮০ টাকা ধরি তাহলে ৯০ ডলারে হয় প্রায় ৭২০০ টাকা।

 

অন্যদিকে আপনার সাইটে কোন দেশের লোক বেশি ভিজিট করছে সেটার উপরও নির্ভর করবে আপনার সাইটের আয়।  কারণ বাইরের দেশ থেকে কোন ক্লিক আসলে সেখান থেকে বেশি সি পি সি পাওয়া যায়। ফলে ইনকাম বেশি আসে।

 

তবে ভিজিটর বাড়ার সাথে সাথে আপনা আপনিই সি পি সি বাড়বে। নিশ্চয়ই বোঝাতে পেরেছি। এই ইনকাম গুলো আসবে মূলত যখন আপনার সাইটটি গুগল অ্যাডসেন্সে যোগ করে দেবেন।

 

এবার আসি আর কি ভাবে ওয়েবসাইট থেকে কত আয় করা যায়।

 

স্পন্সরশীপ

স্পন্সরশীপ সম্পর্কে আগেই বলেছি। তবে কত টাকা আসে স্পন্সরশীপে সেটা ক্লিয়ার করি। যদি আপনি কোন অনলাইন বা অফলাইন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সাথে ডিল করে নিজের সাইটে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন তাহলে তারা মিনিমাম আপনাকে ২৫ ডলার থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত অফার করবে। তবে স্পন্সরশীপের মাধ্যমে তখনই ইনকাম করতে পারবেন যখন আপনার সাইটে হিউজ পরিমাণে ভিজিটর আসবে।

 

কিন্তু কোম্পানি ভেদেও এই টাকা উঠা নামা করে। কারণ লোকাল কোম্পানি গুলো কম দাম দিয়ে থাকে। তবে ইন্টারন্যাশনালী কোম্পানিগুলো বেশি পেমেন্ট দিয়ে থাকে।

 

যখন শুরু করবেন তখন এমনিতেই বুঝবেন যে আপনার কাজে আপনি কতটুকু ডিমান্ড আশা করতে পারেন। তাই শুরু করে দিন, সফলতা আসবেই। তবে কষ্ট করতে হবে।

 

তো এই ছিল আজকের টপিক্স। আশা করি ক্লিয়ার বুঝতে পেরেছি আপনাদের।

 

পড়তে থাকুনঃ

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়!

ইন্টারনেট থেকে আয় করার সহজ উপায়সমূহ!

আরটিকেল লিখে আয় করার গাইড

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্টে জানান

5 thoughts on “ওয়েবসাইট থেকে কত আয় করা যায় তার ক্লিয়ার আলোচনা”

  1. বিডি জব আনুমানিক কত টাকা ইনকাম করে মাসে এবং i m o কত টাকা ইনকাম করে মাসে

    Reply
    • এই ইনকামের টাকাটা কিভাবে
      ওয়েবসাইটেট মালিকের একাউন্টে জমা হবে???

      Reply

Leave a Comment